দানার শঙ্কায় অনিশ্চিত ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৫৪ পিএম

আকাশে মেঘের ভার আর সাগরে উত্তাল তরঙ্গ, এমনই এক দ্বন্দ্বমুখর আবহে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ দিনের খেলা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে, এবং তার শক্তিশালী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ঢাকার মিরপুরেও।

প্রকৃতির এই ক্রোধ যেন টেস্ট ক্রিকেটের উত্তেজনাকে ম্লান করে দিতে আসছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খেলা যখন মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে উজ্জ্বল সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে, তখনই প্রকৃতির চোখরাঙানি ম্যাচটির ভবিষ্যৎকে ঢেকে ফেলেছে অন্ধকার মেঘে।

ক্রিকেটপ্রেমীরা তাই এখন এক অদৃশ্য উদ্বেগে বন্দী, যেখানে ব্যাট-বলের দ্বন্দ্বের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতির খেলা। মিরপুরের আকাশ কি খুলবে, নাকি ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র তাণ্ডবে খেলা থমকে যাবে—এমনই এক শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষায় আছে সকলেই​।

আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’ ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। এর ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে, যা বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ দিনের খেলা ব্যাহত করতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে, তবে ঢাকায়ও এর প্রভাব অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা আছে​

যদি ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’র কারণে চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনের খেলা সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়, তবে ম্যাচটি ড্র হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে উভয় দলই তাদের স্বপ্ন পূরণের পথ থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়বে। বাংলাদেশ ড্রয়ের মাধ্যমে অন্তত একটি সম্মানজনক ফলাফল পাবে, বিশেষত প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৬ রানে অলআউট হওয়ার পর।

খেলা না হলে বা ড্র হলে, উভয় দলই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেবে। এর ফলে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো তাৎপর্যপূর্ণ সুবিধা হবে না, কারণ পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব হবে না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা পূর্ণ পয়েন্টের আশা করেছিল, তাই তাদের জন্য এটা কিছুটা ধাক্কা হতে পারে। এই মুহূর্তে, উভয় দলকেই তাদের আসন্ন টেস্ট ম্যাচগুলোতে আরও সফল হতে হবে চ্যাম্পিয়নশিপের রেসে এগিয়ে থাকতে​।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে, কারণ তারা পূর্ণ পয়েন্ট নিতে চাইছিল। তাদের বোলাররা ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে চাপে রেখেছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে খেলা বিঘ্নিত হলে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে পারে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে তারা বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারত, যা এখন হুমকির মুখে।

বাংলাদেশের জন্য, মিরপুরের উইকেট তাদের ঘূর্ণি বোলিং আক্রমণকে সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আর্দ্র পিচের প্রভাব খেলাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। তবুও, যদি খেলা চালু থাকে, বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে পুরোপুরি খেলা না হলে, বাংলাদেশ অন্তত পয়েন্ট ভাগাভাগির মাধ্যমে কিছুটা সুবিধা পাবে।

মিরপুরের উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক হলেও, বৃষ্টির প্রভাবে পিচের আচরণ আরও জটিল হতে পারে। আর্দ্রতা জমে গেলে পিচ ভারী হয়ে যাবে, যা স্পিনারদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, এবং পেস বোলারদের জন্যও সাহায্য মিলতে পারে। তবে টানা বৃষ্টি ও স্যাঁতসেঁতে অবস্থার কারণে ব্যাটিং আরও কঠিন হয়ে উঠবে, এবং খেলা যদি শুরু হয়ও, ব্যাটসম্যানদের জন্য এটি সহজ হবে না।

মিরপুরের উইকেট প্রায়শই ধীর ও স্পিন সহায়ক হয়, তবে বৃষ্টির কারণে উইকেট আরও ধীর হতে পারে। বল থেমে আসবে, এবং আর্দ্র পরিস্থিতিতে পেসাররাও উইকেট থেকে সহায়তা পেতে পারে। তবে যদি আর্দ্রতা বেশি জমা হয়, পিচে ব্যাটিং করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

ম্যাচের ভবিষ্যৎ আবহাওয়ার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করছে। যদি বৃষ্টি থেমে যায়, তবে খেলা আবার শুরু হতে পারে, আর বাংলাদেশ তখন পিচের সাহায্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আর যদি বৃষ্টি না থামে, তবে ড্রই হবে সম্ভাব্য ফলাফল। যদি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব না কাটে, তবে এই টেস্টের ফলাফল বড়সড়ভাবে প্রভাবিত হতে পারে, এবং বাংলাদেশও এই পরিস্থিতিতে সুবিধা পেতে পারে, কারণ ম্যাচ ড্র হলে তারা পূর্ণ পয়েন্ট না পেলেও কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে​।  যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তির হবে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য হতাশার।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত