সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় এবং তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তদন্তে নেমেছে সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিস। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুব জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) শাল্লা উপজেলা শিক্ষা অফিসে তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটি নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র মো. ইয়াকুব আলী সালামের বিষয়ে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুব জামানের নিকট একটি ভিডিও লিংক পাঠিয়েছেন, যেখানে একজন সাংবাদিককে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় নিলামে অনিয়ম ও সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, বহু পুরাতন ভবন নিলাম ও সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে একটি ভিডিও পেয়েছি। তিনি বলেন, আপনারা কোনো আপস-মীমাংসায় যাবেন না। আপনারা তদন্তের সময় উপস্থিত থাকবেন। বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে দেখার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। আমি সত্য বিষয়টি তুলে স্ট্রং করে ঢাকাতে রিপোর্ট পাঠাতে চাই। যাতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১১ জুলাই শাল্লা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করেন শাল্লা উপজেলার সাংবাদিকরা। এরপর গত ২০ অক্টোবর উপজেলার বিদ্যালয়ের পুরানো ভবনের নিলামের তথ্য চেয়ে আবেদন করেন দৈনিক ইনকিলাব ও স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের শাল্লা প্রতিনিধি আমির হোসেন। এর পূর্বে তার দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেন দৈনিক ভোরের কাগজের প্রতিনিধি জয়ন্ত সেন ও সাংবাদিক শামস শামীম।
এরপরই সাংবাদিক জয়ন্ত সেন ও আমির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া লোক খুঁজতে থাকেন আব্দুস সালাম। উপজেলার কিছু ছাত্রদের বলেন, তোমরা সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের হাত-পা ভেঙে থানায় ফেলে দিয়ে আসো। সাংবাদিক আমির হোসেনকে পিটিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করো। চার আনার সাংবাদিকদের শিক্ষা দাও। টাকা ১ লাখ, ৫ লাখ, যা লাগে দিব। ছাত্ররা তার এমন কথোপকথন হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও করে সাংবাদিকদের জানান।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে উপজেলা শহীদ মিনারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্র জনতা
মানববন্ধনের পর পরই শিক্ষা অফিস ঘেরাও করে সালামের অপসারণের দাবীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা 'একদফা এক দাবি, সালাম তুই কবে যাবি'- দুর্নীতির গদিতে, আগুন জ্বালাও একসাথে'- দফা এক দাবি- এক সালামের পদত্যাগ' এরকম বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
দৈনিক ভোরের কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি জয়ন্ত সেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি আমির হোসেন, দৈনিক শাল্লার খবর ডটকমের সম্পাদক বাদল চন্দ্র দাশ, দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি দিলোয়ার হোসেন, দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি কাজী বদরুজ্জামান, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সন্দীপন তালুকদার, দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকার প্রতিনিধি পাবেল আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলার সমন্বয়ক রাকিবুল হাসান, বিএনপি নেতা মাসুদ আল কাউচার, শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান প্রমুখ।
