নতুনের হাতে নিরাপদ হোক ফুটবল

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:৩০ এএম

ফুটবলে লেগেছে নতুনের ছোঁয়া। নতুন নেতৃত্বের হাতে পৌঁছে গেছে ফুটবলের দায়িত্ব। এবার অতীতের জরা মুছে ফেলার পালা। ধুঁকতে থাকা ফুটবল জাগুক নতুন নেতৃত্বে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আলোচিত এবং অন্যরকম নির্বাচনে ঠিক এমন একটা প্রত্যাশাই ছিল সবার মধ্যে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ক্রীড়াঙ্গনে এটা প্রথম নির্বাচন। সবার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল এই নির্বাচন। রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে আগের রাত থেকেই শত শত মানুষের ভিড়। যেখানে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা যেমন ছিলেন, ছিলেন অন্য অঙ্গনের অনেক মানুষ। যারা এসেছিলেন প্রার্থীদের সমর্থন জানাতে। অনেক ভোটারও সঙ্গে করে এনেছিলেন অনেককে। তাই গোটা দিনই প্রায় হাজার দুয়েক মানুষের ভিড় লেগে ছিল পুরো হোটেল জুড়ে। একেক জনের জড়ো হওয়ার ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকলেও তাদের সবারই চাওয়াটা মিলে গেছে। সবাই চান নতুনের হাতে নিরাপদ থাকুক ফুটবল।

সামগ্রিক প্রত্যাশা আকাশচুম্বী হয়েছে বিগত ১৬ বছর অনিরাপদ হাতে ফুটবলকে ক্ষতবিক্ষত হতে দেখে। দেশের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন ছিলেন বাফুফের মসনদে। তার টানা চার মেয়াদে ফুটবলের উন্নতি তো হয়ইনি, বরং কণ্ঠরুদ্ধ করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটাকে। যার প্রমাণ জাতীয় দলের মানের ক্রম অবনতি। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে ১৮৫তম স্থানে রেখে কাজী সালাউদ্দিন বিদায় নেওয়ায় একটা স্বস্তির সুবাতাস ফুটবল অঙ্গনে বইছিল আগে থেকেই। সভাপতি হিসেবে সালাউদ্দিনের কাছ থেকে ব্যাটনটা নিয়েছেন তরুণ তাবিথ আউয়াল। রানিংমেট হিসেবে পেয়েছেন পরীক্ষিত ইমরুল হাসানকে, যার নেতৃত্বে বসুন্ধরা কিংস হয়েছে টানা পাঁচবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন। শীর্ষ ভাগে পুরনো মুখ বলতে গেলেই ইমরুলই। চার সহ-সভাপতি পদে মিলেছে চার নতুনের দেখা। আর নতুন-পুরনো মিশেলে ফুটবলের দায়িত্বে এসেছেন ১৫জন সদস্য। এদের নিয়েই আগামী চার বছর ফুটবলের মেরামত করতে হবে তাবিথকে।

বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি হয়েছে বিরামহীন নির্বাচন। ২১ পদের বিপরীতে মোট ৪৬ প্রার্থীর মধ্য থেকে ১২৮ জন ভোটার বেছে নিয়েছেন আগামীর নেতৃত্ব। ভোট গ্রহণ, গণনা ও ঘোষণার আগে অবশ্য প্রার্থী-ভোটার-সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করেছে চাঞ্চল্য। এবারের নির্বাচন ভিন্নতা হলো, হয়নি কোনো প্যানেল। দল বেঁধে নির্বাচন হয়নি বলেই ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সবার মধ্যে ছিল একটা দুশ্চিন্তার ছাপ। প্রার্থীদের দুশ্চিন্তা ভোটারদের আস্থা আদায় করায়। আর ভোটারদের চিন্তা সেরা নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার।

অর্থ বাজেট অনুমোদন ছাড়াই শেষ হয় বার্ষিক কংগ্রেস : কংগ্রেসে ২০২৫ সালের অর্থ বাজেট অনুমোদন দেয়নি সাধারণ পরিষদ। ময়মনসিংহ বিভাগের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান এক পাতার ঘাটতি প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অস্বচ্ছ এই প্রতিবেদন নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে পুনরায় পেশ করার দাবি জানান তিনি। আর এই দাবির জোর সমর্থন পাওয়ায় ১৪ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট অনুমোদিত থেকে যায়।

বিদায় বেলায়ও সালাউদ্দিনের কিরণপ্রীতি : সোয়া ১১টায় শুরু হওয়া কংগ্রেসের একেবারে শুরুতে কাজী সালাউদ্দিনের পাশে আলোচিত মাহফুজা আক্তারকে বসতে দেখে আপত্তি ওঠে সাধারণ পরিষদে। বিদায়বেলায়ও নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারেননি সালাউদ্দিন। বার্ষিক কংগ্রেসে কিরণকে এবারও পাশের আসনে বসিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। অতীতেও এ রকম কীর্তি ঘটিয়ে আলোচনা উসকে দিয়েছিলেন সালাউদ্দিন। এ নিয়ে জোর আপত্তি তুলেছিলেন শরীয়তপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক চঞ্চল। এই আপত্তি অবশ্য ধোপে টেকেনি। সালাউদ্দিন পাল্টা মেজাজ হারিয়েছেন, হয়েছে হট্টগোল। তবে কিরণ নিয়ম ভেঙে বসেছেন বিদায়ী সভাপতির পাশেই।

খোলনলচে পাল্টে ফেলবেন নয়া সভাপতি : ১২৮ ভোটের মধ্যে ১২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত সভাপতি তাবিথ আউয়াল প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিয়েছেন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। ফেডারেশনের খোলনলচে বদলে ফেলে ফুটবলকে কক্ষপথে ফেরাতে চান তিনি, ‘আমরা সবাই একমত যে আমরা ফুটবলে পরিবর্তন আনতে চাই। এই কারণে শুরুতে আমরা সংবিধান ও অবকাঠামোগুলো রিফর্ম করার কর্মসূচি হাতে নেব। একই সঙ্গে ফুটবল যেন চলমান থাকে মাঠে, মানটা আরও উঁচু পর্যায়ে যায়, সেই জায়গায়ও আমরা কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।’

নিষিদ্ধ সোহাগের সব চেষ্টা ব্যর্থ : ২০২৩ সালের এপ্রিলে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অনিয়মের দায়ে ফিফার নিষেধাজ্ঞা নেমে এসেছিল বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের ওপর। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করে। তবে এই নির্বাচনে বারবারই ফুটবল অঙ্গনের মানুষদের কাছে পৌঁছেছেন সহধর্মিণী তাসমিয়া রেজোয়ানার জন্য সদস্য পদে ভোট চাইতে। এমনকি নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের ফটকে দাঁড়িয়ে ক্যাম্পেইন করেন।

বাফুফের কর্তাদের নাকের ডগায় সোহাগ প্রায় পুরোটা সময় ভোটারদের বিব্রত করেছেন। এ নিয়ে বাফুফেকে কোনো ব্যবস্থাই নিতে দেখা যায়নি। ফিফা ও এএফসি থেকে আসা দুই পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে সোহাগের এ রকম আচরণে অনেকেই বিস্মিত হলেও বাফুফে তাকে সরাতে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। নির্বাচন কমিশনও সোহাগের ব্যাপারে রহস্যজনকভাবে থেকেছে নীরব! সোহাগের চেষ্টার পরও নির্বাচনে হেরে গেছেন তার সহধর্মিণী তাসমিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত