যেকোনো উপদেষ্টাকে নামাতে ২৪ ঘণ্টা যথেষ্ট, দাবি সমন্বয়কের

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম

যেকোনো উপদেষ্টাকে নামাতে শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এক সমন্বয়ক। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক দাবি করা আবু নাসিম বলেন, যে অন্যায় করবে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে কথা বলবে। দেশের যেকোনো উপদেষ্টাকে নামাতে শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৪ ঘণ্টা যথেষ্ট।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদীতে ড্রেজার লাগিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন শুরু হয়। গত তিন মাসে নদী থেকে প্রায় শত কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট হয়েছে। সেই বালু-পাথর লুট বন্ধে পুলিশ ভিন্ন কায়দায় নদীর প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড দিয়েছে। দফায় দফায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু ও পাথর লুট বন্ধ করতে পারেনি।

ফলে গত শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ সদর থানার উদ্যোগে মানুষের চলাচলের রাস্তা রেখে নদীর প্রবেশ মুখে বড় তিনটি ব্যারিকেড দেয়। এতে সাময়িক বন্ধ হয় লুট। পরে গত দুই দিনে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে লুটের সঙ্গে জড়িত মূলহোতা বাবুল ও নিজামকে গ্রেপ্তার করে।

কীভাবে এই নদী রক্ষা করা যায় সেটি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে সোমবার মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সুনামগঞ্জ জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। তবে দুপুর ২টায় সভায় সুনামগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের সময় বাধে বিপত্তি।

সেখানে শিক্ষার্থীরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের যোগসাজশে নদীতে লুট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। সভায় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগের দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় সভায় হট্টগোল শুরু হলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক দাবি করা আবু নাসিম বলেন, যে অন্যায় করবে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে কথা বলবে। দেশের যেকোনো উপদেষ্টাকে নামাতে শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৪ ঘণ্টা যথেষ্ট।

তবে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি এই জেলায় নতুন যোগদান করেছি। নদী লুটের সঙ্গে যে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দিক বলেন, সুনামগঞ্জের নদী লুট বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা নদী লুটের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইজারা দেওয়া বালু মহালগুলোতে বালি আছে কি না তা আবারও খতিয়ে দেখা হবে। যারা বালু লুট করেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত