জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গতকাল সোমবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে একটি ‘বিতর্কিত’ বিল পাস হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে সংস্থাটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
সোমবার এ সংক্রান্ত ২টি বিল ইসরায়েলের সংসদে পাস হয়। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিল উত্থাপনের পর নেসেটের ১২০ জন এমপির মধ্যে ৯২ জনই ইসরায়েলে আনরোয়ার কার্যক্রম বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষাকারী হিসেবে ধরা হয় জাতিসংঘের এই সংস্থাকে। যুদ্ধের শুরু থেকেই খাদ্যপণ্যসহ অতিপ্রয়োজনীয় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সামগ্রী নিয়ে গাজাবাসীর মানবিক সংকট লাঘবের চেষ্টা করে যাচ্ছে ইউএনআরডব্লিউএ।
আর আই সংস্থাকে নিষিদ্ধ করায় উদ্বিগ্ন পশ্চিমা দেশগুলোও। ইসরায়েলের অনেক পশ্চিমা মিত্রর ধারণা, এ সিদ্ধান্তে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলায় ইউএনআরডব্লিউএ-এর কিছু সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া তাদের কয়েকজন হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ইউএনআরডব্লিউএ-এর কর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ্পি লাজারিনি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ভোটাভুটি জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরবলেন, ‘এটা ইউএনআরডব্লিউএকে অপবাদ দেওয়ার জন্য চলমান প্রচার এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মানবিক উন্নয়নে সহায়তা ও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থার ভূমিকাকে অবৈধ প্রমাণ করার সর্বশেষ নজির।‘
অন্যদিকে ইউএনআরডব্লিউএকে নিষিদ্ধের দিনই গাজার উত্তরাঞ্চলের আরও ভেতরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো। সেখানে প্রায় লাখ খানেক মানুষ আটকা পড়েছেন।
ফিলিস্তিনি জরুরি পরিষেবা বলছে, হামাসের যোদ্ধাদের নির্মূল করতে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
