‘বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে’

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:২২ পিএম

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ৬২ দিনের অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে যে বাংলাদেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে এলোমেলো করে দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (৩০অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ দেশের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তাদের কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। আমি দায়িত্ব পাবার পর কারিকুলাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন আইসিটি ও সফট স্কিল অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রকার সিন্ডিকেট সহ্য করা হবে না। আমাদের চাপে রেখে ছাত্রদের ব্যবহার করে যারা অটোপাস আদায় করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো অটোপাস দেওয়া হবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অটোপাস দিলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, একটা সময় ছিল যখন বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মসংস্থানের জন্য লোকজন আমাদের দেশ দেশে আসতো অথচ আজ আমরা সেই সকল দেশ থেকে অনেক পিছিয়ে পড়েছি। গত দশকের এলোমেলো শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে আজ আমাদের এই অবস্থা। এর থেকে উত্তরণের জন্য ও গুণগত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছি।

আলোচনা সভায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে। র‍্যালী শেষে শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত