হিলিতে পেঁয়াজের কেজি ৪ টাকা, বিপাকে আমদানিকারকরা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৩৬ পিএম

দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ আমদানি করে বিপাকে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। অতিবৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত পেয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট এসব পেঁয়াজ প্রতিবস্তা বিক্রি হচ্ছে ২শ টাকা দরে আর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪টাকা দরে আবার কিছু পেঁয়াজ ফেলে দিতে হচ্ছে। বাড়তি দামে আমদানি করে কম দামে বিক্রির ফলে লোকশানের মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা। এ দিকে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পেরে দারুণ খুশি পাইকাররা।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে,তবে দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। বন্দরে ভালো মানের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা আগে ৯৫ থেকে ১০২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। আর যেসব পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে ওই গুলো আমদানিকারকরা বন্দর থেকে বাহির করে নিজস্ব গুদামে নামিয়ে রাখছেন। সেখানে বস্তা থেকে পেঁয়াজ বাহির করে ফ্যান দিয়ে পেঁয়াজ গুলোকে শুকানো হচ্ছে। আবার যেসব পেঁয়াজ অনেকটা খারাপ সেগুলো নারী শ্রমিক দ্বারা ভালো খারাপ বাছাই করা হচ্ছে। গুদামগুলোতে খারাপ পেঁয়াজগুলো থেকে বাছাইকৃত পেঁয়াজ প্রকারভেদে মান অনুযায়ী ২০ থেকে ৪০ টাকা আবার কিছু পেঁয়াজ ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর নিম্নমানের পেঁয়াজ প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) ২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু কিছু পেঁয়াজ ফেলে দিতেও হচ্ছে। 

গুদামে কর্মরত নারী শ্রমিক হোসনে আরা বলেন, আমদানিকৃত পেঁয়াজে অনেক পচা নষ্ট বের হয়েছে আমরা এসব পেঁয়াজ বাছাই করছি। বস্তা মেঝেতে ঢেলে তার মধ্যে থেকে খারাপ পেঁয়াজ গুলো আলাদা করছি আর যেগুলো একটু ভালো সেগুলো আলাদা করছি। এখানে আমরা ৪/৫জন নারী এই পেঁয়াজ বাছাই এর কাজ করছি। খারাপ পেঁয়াজগুলো ২শ টাকা করে বস্তা বিক্রি করছে। আর এই কাজ করে আমাদের মজুরি দিচ্ছে ২শ টাকা করে যা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চলছি। মাঝে মধ্যেই এরকম অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায় তখন আমাদেরকে খবর দিলে আমরা এসে বাছাই করে দিয়ে যায়। 

পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল করিম বলেন, আমি হিলি থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে স্থানীয় গ্রামের হাটগুলোতে বিক্রি করি। আজ পেঁয়াজ কিনতে এসে দেখি গুদামে ভালো মানের পেঁয়াজ রয়েছে আবার পচা নষ্ট পেয়াজ রয়েছে। ভালো মানের যে পেঁয়াজ সেগুলো ৯০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আর যেগুলো একটু খারাপ সেগুলো ৬৫ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আরো কিছু খারাপ পেঁয়াজ রয়েছে সেগুলো বস্তা হিসেবে বিক্রি করছে।

পেঁয়াজ কিনতে আসা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, এখানে এক বস্তা পেঁয়াজ ক্রয় করলাম ২শ টাকা দিয়ে। এই পেঁয়াজ বাসায় নিয়ে গিয়ে বাছাই করে যেগুলো একটু ভালো খাওয়ার মত বাহির হবে সেগুলো আলাদা করবো। দেখা যাচ্ছে বস্তাতে অন্তত ১০ থেকে ১৫কেজি ভালো বের হতে পারে। সেসব পেঁয়াজ ভালোভাবে ধুয়ে সেগুলো স্থানীয় হাটে বিক্রি করবো। আবার কিছু পেঁয়াজ বাড়ির খাওয়ার জন্য রাখবো যা আয় হবে সেটি আমাদের জন্য উপকার। 

পেঁয়াজ নিতে আসা জোৎস্না বেগম বলেন, আমদানিকারকদের গুদাম থেকে অনেক পেঁয়াজ ফেলে দিছে। আমরা এসব পেঁয়াজের মধ্যে থেকে বেছে বেছে যেগুলো ভালো বের হচ্ছে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছি। এগুলো বাসায় নিয়ে গিয়ে পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে খাব। বাজারে তো পেঁয়াজের দাম বেশি এত দাম দিয়ে কেনা সম্ভব হচ্ছে না। শুনলাম এখানে পেঁয়াজ ফেলে দিয়েছে যার কারণে আসছি। আমার মত অনেক নারী এখানে এসেছে বেছে বেছে তারা পেঁয়াজ নিয়ে যাচ্ছে।    

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হেলাল উদ্দিন বলেন, আসলে ভারতের যে স্থান থেকে পেয়াজ আমদানি হচ্ছে এর দূরুত্বটা অনেক বেশি। প্রায় ২১শ’কিলোমিটার দূর থেকে এই পেঁয়াজগুলো আসছে যা দেশে প্রবেশ করতে ৬ থেকে ৭দিন মত সময় লাগে। এর ওপর নিম্নচাপের ফলে আমাদের দেশেও যেমন আবহাওয়া খারাপ তেমনি ভারতেও আবহাওয়া খারাপ। বৃষ্টি হচ্ছে। যার কারণে ট্রাকগুলো থেকে ত্রিপল খুলতে পারছে না যার কারণে গরমে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বৃষ্টির মধ্যেও অনেক ট্রাক লোডিং হওয়ায় সেসব ট্রাক দেশে আসতে আসতে অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । এতে করে অনেক পেঁয়াজ আমাদেরকে ফেলে দিতে হচ্ছে। ভালো পেঁয়াজগুলো বন্দরে বিক্রি করতে পারলেও খারাপ পেঁয়াজগুলো নিজস্ব গুদামে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেগুলো শ্রমিক দিয়ে বাছাই করে কিছু পেঁয়াজ বাহির করা হচ্ছে যেগুলো একটু ভালো সেগুলো হয়তো অর্ধেক দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। আর বাকি পেঁয়াজগুলো সব ফেলে দিতে হবে এছাড়া কোনো উপায় নেই।

তিনি আরও বলেন, মানুষ মনে করে আমরা ব্যবসায়ীরা চড়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে অনেক লাভ করি। সেজন্য বলছি আপনারা আসেন দেখেন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। আমরা লাভ করছি না ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি সেটি তুলে ধরেন। আসলে পেঁয়াজের ব্যবসায় সিন্ডিকেট করার কোনো অবকাশ নেই। এর কারণ হলো এটি কাঁচা পণ্য এটি তো আটকে রাখা যায় না। এক থেকে দুদিনের বেশি রাখলেই পচে নষ্ট হয়ে যাবে। 

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিতভাবে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে তবে আমদানির পরিমাণ উঠনাামা করছে। পেঁয়াজ আমদানির পর আমদানিকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা নীরিক্ষা সম্পূর্ণ করে রিপোর্ট দেওয়া আছে। যাতে আমদানিকারকরা দ্রুততার সাথে বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস করে নিতে পারেন। মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে ৩০ টি ট্রাকে ৮৭১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আজো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত