নিজের তৈরি হেলিকপ্টার উড়াতে বেবিচকের দারস্থ নাজমুল

  • হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি চেয়ে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন নাজমুল
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৪০ এএম

খুলনার ফুলতলার ছাতিয়ানী গ্রামের কলেজছাত্র নাজমুল হোসেন খান প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করে বাড়িতে বসে একটি হেলিকপ্টার তৈরি করেন। তার হেলিকপ্টার তৈরির সংবাদ ও ভিডিও ফলাও করে প্রচার করে দেশের গণমাধ্যম। এখন হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি চেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন নাজমুল।

সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাজমুলকে ‘হেলিকপ্টারের পাখা ঘোরে, কিন্তু ওড়ে না’ এমন অনেক নেতিবাচক মন্তব্য ও ট্রলের শিকার হতে হয়। কিন্তু তাতে দমে যাননি তিনি। নিজের তৈরি হেলিকপ্টার উড়ানোর জন্য অনুমতি চেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন পাঠিয়েছেন নাজমুল।

নাজমুল বলেন, হেলিকপ্টার ওড়াতে গেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। তাই গত রোববার ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। সংস্থাটির অনুমতি মিললে হেলিকপ্টারটি ওড়ানো সম্ভব হবে। আমি অনুমতির অপেক্ষায় আছি।

এ ব্যাপারে ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহান বলেন, নাজমুলের আবেদনপত্রটি আমি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে ফরোয়ার্ড করেছি। তারা নির্দেশনা দিলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। 

নাজমুল নগরীর বিএল কলেজে বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি ফুলতলা উপজেলার জামিরা ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের মুদি দোকানদার নজরুল ইসলাম খানের ছেলে। নাজমুল প্রায় ৩ বছর চেষ্টা করে এক আসনের একটি হেলিকপ্টার তৈরি করেছেন। চায়না দেড়শ’ সিসির মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন মডিফাই করে এটি তৈরি করা হয়। হেলিকপ্টারের বডি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে এসএস পাইপ। এটির দৈর্ঘ্য ২২ ফুট।

নাজমুল জানান, হেলিকপ্টারটি এক লিটার অকটেনে ১৮ থেকে ২০ মিনিট  চলবে, যার সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। এটি ২১০ কেজি ওজন নিয়ে সাড়ে তিন হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে পারবে।

জামিরা বাজার আসমতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবীর বলেন, নাজমুলের তৈরি করা হেলিকপ্টার দেখেছি। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে হেলিকপ্টারটি আকাশে ওড়াতে পারবে।

নাজমুলের বাবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক মেধা ও শ্রম দিয়ে নাজমুল হেলিকপ্টারটি তৈরি করেছে। ওর শখ পূরণের জন্য আমি তাকে টাকা দিয়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে নাজমুল হেলিকপ্টারটি ওড়াতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রতিদিন হেলিকপ্টারটি দেখতে লোকজন নাজমুলের বাড়িতে ভিড় করছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত