সরকারবিরোধী আন্দোলন ও বন্যার কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা প্রস্তুতকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড লোকসানে পড়েছে। বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় এ প্রান্তিকে ১২ কোটি টাকারও বেশি নিট লোকসানে পড়েছে কোম্পানিটি। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান করলেও ৯ মাসের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) হিসাবে কোম্পানিটি ৩১ কোটি টাকার নিট মুনাফায় রয়েছে। গতকাল প্রকাশিত বাটা সু কোম্পানির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে ৯ মাসের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে বাটা সু কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩৪০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ হিসাবে শেয়ারহোল্ডাররা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি শেয়ারে ৩৪ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। নিয়মিত আয়ের বাইরে লভ্যাংশের অবশিষ্ট অর্থ রিজার্ভ থেকে দেবে কোম্পানিটি।
বাটা সু কোম্পানির চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় কোম্পানিটির প্রস্তুতকৃত জুতা বিক্রি করে আয় হয়েছে ১৫৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম। গত বছরের একই সময়ে কোম্পানির আয় ছিল ১৮৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আলোচিত সময়ে বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাটা সুর উৎপাদন ব্যয় ছিল মোট বিক্রির ৫৪ শতাংশ, যা চলতি বছরের একই সময়ে ৫৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
উৎপাদন ব্যয় সমন্বয় শেষে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম। এ সময়ে প্রশাসনিক, বিক্রি ও বিতরণ ব্যয় সমন্বয়ের পর বাটা সু পরিচালন লোকসানে পড়েছে। এ সময় পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ব্যয় সমন্বয়ের পর কোম্পানিটির পরিচালন লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফায় ছিল।
চলতি বছরে বাটা সুর আর্থিক ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির সুদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে নিট লোকসান ছিল ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
বাটা সু সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানির পণ্য বিক্রির মৌসুম দুই ঈদে। বছরের অন্য সময় কোম্পানির আয় কিছুটা কমে যায়। তবে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও বন্যার কারণে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি তুলনামূলক বেশি। গত বছরের একই সময়েও কোম্পানিটি নিট লোকসান দিয়েছিল। এর আগে করোনার সময়ে ২০২০ ও ২১ সালে বড় লোকসান দিয়েছিল বাটা সু।
