আমাকে না রাখলেও চরিত্রকে মনে রাখুক

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:০৬ এএম

প্রায় দেড় যুগের ক্যারিয়ার। কাজ করেছেন নাটক, ওটিটি এমনকি সিনেমাতেও। তবে ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’ দিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এরপর ‘কাইজার’, ‘জাহান’ দিয়েও কুড়ান প্রশংসা। মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিরিজ ‘রঙিলা কিতাব’। সিরিজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন ইমরুল নূর

মহানগর, কাইজার, জাহান এরপর এবার ‘রঙিলা কিতাব’। চরিত্রটি কতটা চ্যালেঞ্জিং?

প্রতিটি চরিত্রেরই ভিন্নতা আছে, তার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ। ‘রঙিলা কিতাব’-এ অভিনয়ের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে অনম বিশ্বাস ভাইয়ের কথা বলতেই হবে। তিনি প্রচণ্ড কুল মানুষ। শুটিং চলাকালে প্রচণ্ড গরম ছিল যার ফলে খুব কষ্ট করতে হয়েছে। তানভীর ভাইয়ের দারুণ সিনেমাটোগ্রাফির ফলে প্রদীপ ক্যারেক্টরটা সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পেরেছি। এ চরিত্রে অভিনয় না করে পোর্ট্রে করাটাই চ্যালেঞ্জিং ছিল।

অনম বিশ্বাস এবং পরীমণির সঙ্গে আপনার প্রথম কাজ। অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

দুজনেই খুব ভালো, খুব কো-অপারেটিভ। পরিচালক যেভাবে বলেছেন চেষ্টা করেছি সেভাবে করার জন্য। কাজটা খুব প্রফেশনালি করেছি। প্রথম কাজ হিসেবে অনম ভাইয়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। পাশাপশি পরীমণির সঙ্গেও। পরীমণি ভয়ংকর সুন্দর অভিনয় করেছেন। আশা করছি কাজটি দর্শকদের ভালো লাগবে।

দেড় যুগের ক্যারিয়ার। কিন্তু ‘মহানগর’ দিয়ে আপনি সর্বমহলে পরিচিতি পান। এতটা সময় কেন লাগল?

‘মহানগর’ দিয়েই মানুষ আমাকে চিনেছে, এই বিষয়টার সঙ্গে আমি একমত নই। আমার কাছে প্রতিটা কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ। যখন প্রথম সিনেমায় অভিনয় করি সেদিন যতটুকু অনস্ক্রিন অভিনয় করেছিলাম সেটাও যেমন গুরুত্বপূর্ণ আজকের দিনে এসে যা অভিনয় করছি সেটাও তাই। তার কারণ সে ছোট ছোট কাজগুলো না করলে আজ আমি বড় কাজের সুযোগ পেতাম না। একটু একটু কাজ করে এসেছি দেখে মানুষ আমাকে চিনছে। তবে হ্যাঁ, মহানগর সিরিজের পরে অনেক মানুষ একসঙ্গে চিনেছে।

আপনার চাওয়া অনুযায়ী সুযোগ পেয়েছেন?

যখন টগবগে যুবক ছিলাম তখন সুযোগ আসেনি বা এসেছে। আমি এভাবে বিচার করি না। সুযোগ যখন আসার তখন এমনিতেই চলে আসে।

মহানগরের পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নিয়মিত মুখ আপনি...

২০০৬ সাল থেকে ছোট ছোট কাজ করতাম। তখন কিছু কাজ রিলিজ হয়েছে। কখনো প্রমোশন হয়েছে, আবার হয়নি। সবসময় কাজের মধ্যে থাকতে চেয়েছি। চেষ্টা করেছি আমাকে দর্শক মনে রাখুক বা না রাখুক, চরিত্রকে মনে রাখুক। যেকোনো নতুন চরিত্রে অভিনয়ের সময় চেষ্টা করি চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে কতটুকু উপস্থাপন করতে পারছি। দর্শক যেন মনে না করে তারা বারবার একটা মানুষকে দেখছে। পরিচালকের ভিশনের ওপর নির্ভর করে চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলি। এই কাজগুলোতে সময় এবং টাকা বেশি লাগে। সেগুলো যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই কাজের ব্যস্ততা তৈরি হয়। ওটিটি আসাতে সে সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর সে জন্যই হয়তো আমাকে বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে আমি বারবার নিজেকে ভাঙার প্রস্তুতি খুব উপভোগ করি। নতুন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে পারি।

থিয়েটার দিয়ে আপনার শুরু। তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগ থেকে অনার্স করেছি এবং অ্যাক্টিংয়ে মাস্টার্স করেছি। তাছাড়া বেশ কিছু থিয়েটারে অভিনয় শিক্ষক হিসেবে যুক্ত আছি। আমি স্বপ্ন দেখি দেশে একটা প্রফেশনাল থিয়েটারের। বাগেরহাটে চেষ্টা করেছিলাম, একটা প্রোডাকশন (সাহস) করতে পেরেছিলাম। আমাদের দেশে থিয়েটার অনেক পিছিয়ে আছে। এটা প্রফেশনাল হওয়া জরুরি। প্রতিটি কাজেই পেশাদারি হওয়া জরুরি। রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতি নেই কেন? আমরা পাসপোর্টে কেন নিজের পেশা লিখতে পারি না? সামাজিকভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে কেন স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না? একটা ছেলে বা মেয়ে কেন চিন্তা করতে পারছে না অভিনয়ও পেশা হতে পারে। কারণ আমরা সেই স্বীকৃতি এবং পেশাদারিত্বের নিশ্চয়তা দিতে পারিনি।

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কারণে অনেকেরই কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এটাকে কি আশীর্বাদ বলে মনে হয়?

এখনো সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে হয় না। কারণ দেখা যায় এখানে যার কনটেন্ট ভালো চলছে বারবার তাকেই নিতে হবে। কেন নিতে হবে? ভালো অভিনেতাদের কেন সুযোগ দিচ্ছে না বা ভালো ডিরেক্টরদের কেন সুযোগ দিচ্ছে না? কাস্টিং এজেন্সি তৈরি হচ্ছে না কেন? কাস্টিং হাব কেন তৈরি হচ্ছে না? হাব তৈরি হলে তো প্রত্যেক অভিনয় শিল্পী একটা জায়গায় আসতে পারে। হ্যাঁ, এটা সত্য ওটিটি অনেকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। প্রতিটি প্লাটফর্মের জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ হতে হবে। নতুন অভিনয় শিল্পীদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দুই-পাঁচ জনকে দিয়ে কাজ করলে ফলাফল ভালো হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত