ক্ষমতা দখলের পর প্রথম চীন সফরে যাচ্ছেন মিয়ানমার জান্তা প্রধান

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০৯ পিএম

ক্ষমতা দখলের পর প্রথবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে এ সফরে যাচ্ছেন তিনি।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল এমআরটিভি বলেছে, আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর চীন সফর করবেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং। এ সময় তিনি গ্রেটার মেকং সাবরিজিয়ন এবং ইরাবতি-চাও ফ্রায়া-মেকং ইকোনমিক কো-অপারেশন স্ট্র্যাটেজির (এসিএমইসিএস) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

পরে চীনের কুনমিংয়ে কম্বোডিয়া, লাওস এবং ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এছাড়া হ্লাইং চীনা সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন জোরদারে বৈঠক ও আলোচনা করবেন।

অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার-চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। জাতিগত সংখ্যালঘু মিলিশিয়ারা সামরিক সরকারের কাছ থেকে বিশাল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, গত অক্টোবরে অতর্কিত আক্রমণের পর থেকে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবীদের দ্রুত সাফল্যের মুখে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরাজয় চীনকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর ফলে দেশটি মিয়ানমার সীমান্তের কিছু অংশ এবং বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে মূল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের কৌশলগত অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির ভেতর দিয়ে প্রধান তেল ও গ্যাস পাইপলাইন এবং বঙ্গোপসাগরে একটি পরিকল্পিত গভীর সমুদ্রবন্দর।

আগস্টে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আদমশুমারি ও প্রস্তাবিত নির্বাচনের জন্য জান্তাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে কিছু সমালোচক জান্তার প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন হিসেবে দেখছেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অ্যাক্টিভিস্টরা চীনের অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করে একে তাদের গণতন্ত্রের সংগ্রামের অন্তরায় বলে অভিহিত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত