গর্ভপাত ইস্যুতে নারীদের অধিকার রক্ষার আশ্বাস, নতুন যুক্তরাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার, গাজায় শান্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি, এমনকি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার আশ্বাসেও শেষ অবধি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের আস্থাভাজন হতে পারলেন না কমলা হ্যারিস। ইতিহাস অধরাই রয়ে গেল তার। হতে পারলেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। দেশটির ইতিহাস রাঙা হলো না কমলার রঙে। কেন পারলেন না কমলা? এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে অর্থনীতি একটা বড় ইস্যু ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন এই ইস্যুতে কমলার তুলনায় অনেক বেশি সরব হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রস্তাবিত ইকোনমিক পলিসিগুলোয় ভোটাররা বেশি আস্থা রেখেছেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব পড়েছে সুইং স্টেটগুলোয়।
এ ছাড়া শে^তাঙ্গ আমেরিকানদের কাছে কমলার তুলনায় ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি ছিল, যা সুইং স্টেটগুলোর ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। গতবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় এবার সুইং স্টেটগুলোয় ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশি সমর্থন পেয়েছেন। সুইং স্টেটগুলোয় কমলা হ্যারিসের ধরাশায়ী পরিস্থিতি তার পরাজয়ের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কমলা হ্যারিসের ক্ষেত্রে তার কমিউনিকেশন স্টাইল আমেরিকার ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তার একাধিক ভাষণ অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন অধিকাংশ ভোটার। প্রচারের মধ্যে সাংবাদিক কিংবা ভোটারদের প্রশ্নের উত্তরে কমলার তীক্ষè জবাব অনেক সময়েই তাদের অসন্তুষ্ট করেছে।
কমলা হ্যারিসের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বহু প্রবীণ ভোটার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্লেখ করা ইস্যুগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট ছিল বলে মতামত উঠে এসেছিল ভোটারদের সমীক্ষায়।
নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার অভাব কমলাকে তার নিজের দলের সমর্থকদের কাছেই দুর্বল করে তোলে। ডেমোক্র্যাট দলের অনেকেই সে কারণে ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকে পড়েন বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।
ফলে গর্ভপাত, সমকামিতা, নারী স্বাধীনতার মতো ইস্যুগুলোয় সরব হয়েও শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজ দখল করতে পারলেন না ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস।
একাধিকবার কমলা হ্যারিসকে তাচ্ছিল্য এবং কটাক্ষ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বংশপরিচয়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুবার ছড়িয়েছে তার ডিপফেক ভিডিও। তা সত্ত্বেও সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেটে ভালো পারফরম্যান্স ছিল তার। একাধিক জনমত সমীক্ষাতেও কমলা এগিয়ে ছিলেন। তবে বাস্তবে ঘটল ঠিক এর বিপরীত। সমস্ত সমীক্ষার ফলাফলকে ভুল প্রমাণ করে হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তন হলো ট্রাম্পের। বলতে গেলে লাল ঝড়ে ফিকে হয়ে গেলে নীল শিবিবের কমলা।
