৬ মাস ধরে পাকিস্তানি সেফহোমে বাংলাদেশি বৃদ্ধা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৪১ পিএম

মানুষ সামাজিক জীব। এ কারণেই মানুষ মাত্রই সমাজবদ্ধ হয়ে থাকতে পছন্দ করেন। তাছাড়া একা থাকাও কারোর পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে পারিবারিক জীবন খুবই জরুরি। পারিবারিক বন্ধন মানে আপনি আপনার পরিবার থেকে যতই পালাতে চান না কেন, আপনি পারবেন না। পরিবার একটি আশীর্বাদ। অথচ বগুড়ার শেরপুরের কোনো এক পরিবার থেকে প্রায় ৬ মাস হলো বিচ্ছিন্ন রয়েছেন এক বৃদ্ধা।

তিনি বলছেন, তার বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকায়। কিন্তু গ্রামের নাম, নিজের নাম এমনকি কোনো আত্মীয় স্বজনের নামও বলতে পারছেন না তিনি। তার পরিবারের লোকজনকে খুঁজে পেতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন শেরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল হক।

জানা যায়, শেরপুর উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকার এক বৃদ্ধা প্রায় ৬ মাস আগে কোনো না কোনোভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। সেখানে তাকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখে ভারতের পুলিশ আটক করে। ওই বৃদ্ধার কথাবার্তা শুনে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলে তারা তাকে পাকিস্তানের একটি ট্রেনে তুলে দেন। পাকিস্থানের বর্ডার অতিক্রম করলে সেখানকার সমাজসেবা কর্মীরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে লাহোরের সমাজসেবার সেফহোমে রাখেন। ওই বৃদ্ধার কাছ থেকে তারা জানতে পারেন যে তার বাড়ি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকায়।

এরই প্রেক্ষিতে গত ১ নভেম্বর লাহোরের স্টেট জেনারেল শেরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল হককে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবগত করেন। তারপর সমাজসেবা কর্মকর্তার কথা হয় লাহোরের সমাজসেবা সেফহোমের মনোবিজ্ঞানী ডা. রাফিয়া আহম্মেদের সাথে। ওই বৃদ্ধার কোনো আত্মীয়স্বজন বা কোনো প্রতিবেশীর খোঁজ মিললেই সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে তারা বৃদ্ধাটিকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো.ওবাইদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাকিস্তানের লাহোর শহরের স্টেট জেনারেল ও সমাজসেবা সেফ হোমের মনোবিজ্ঞানী ডা. রাফিয়া আহম্মেদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বর্তমানে ওই বৃদ্ধাটি তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং সুস্থ আছেন। ওই বৃদ্ধা-বগুড়ার শেরপুর আর চান্দাইকোনা ছাড়া অন্য কোনো তথ্যই দিতে পারছেন না। তাই শেরপুর উপজেলাসহ দেশের সকল মানুষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যে যদি কেউ তাকে চিনে থাকেন তাহলে ০১৭১৮৭৮৬৩৮১ ও ০১৭১৪৭৪১৩১৯ নাম্বারে যোগাযোগ করবেন। যাতে আমরা ওই বৃদ্ধাটিকে দেশে এনে তার পরিবারের লোকজনের কাছে দিতে পারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত