হিলি স্থলবন্দরের ৩৩ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:১৮ পিএম

দেশের বাজারে চালের সররবাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে হিলি স্থলবন্দরের ৫ জন আমদানিকারক ২২ হাজার টন সিদ্ধ ও ১১ হাজার টন আতপ চাল আমদানির বরাদ্দ পেয়েছে। তারা চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছেন। অনুমোদন পেলে এলসি খোলার পর আগামী সপ্তাহ থেকে চাল আমদানি শুরু হতে পারে।

মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত পত্র সূত্রে জানা যায়, হিলি স্থলবন্দরের মেসার্স সাইরাম ইন্টারন্যাশনাল ৪ হাজার টন সিদ্ধ ও ২ হাজার টন আতপ চাল আমদানির বরাদ্দ পেয়েছে। মেসার্স হিলি ইমপেক্স ২ হাজার টন সিদ্ধ ও ২ হাজার টন আতপ, মেসার্স শরিফুল ট্রেডার্স ৫ হাজার টন সিদ্ধ ও ২ হাজার টন আতপ চাল, মেসার্স রেনু কনস্ট্রাকশন ১০ হাজার টন সিদ্ধ ও ৫ হাজার টন আতপ চাল, আল আকিফ ট্রেডার্স ১ হাজার টন সিদ্ধ ও ১ হাজার টন আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ পেয়েছে। সারাদেশের সর্বমোট ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টন সিদ্ধ ও ১ লাখ ৬২ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাল আমদানিতে ৬২.৫ ভাগ শুল্ক থাকায় ও আমদানির অনুমতি না থাকায় ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সরকার দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এরপরে সরকার চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ দিতে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে আবেদন গ্রহণ করেন। আমরা সেই প্রেক্ষিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছিলাম। ইতোমধ্যেই তারা বরাদ্দ দিয়েছেন হিলি স্থলবন্দরের ৫ জন আমদানিকারক সিদ্দ ও আতপ মিলিয়ে ৩৩ হাজার টন চাল আমদানির বরাদ্দ পেয়েছেন। ইতোমধ্যেই তারা কৃষি মন্ত্রণালয়ে চাল আমদানির অনুমতি (আইপি) চেয়ে আবেদন করেছেন। আমদানিকারকরা এলসি খোলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন অনুমোদন পেলে অনেকেই এলসি খুলবেন।

এতে করে হয়তোবা এই সপ্তাহ থেকে চাল আমদানি শুরু হতে পারে। ভারতের বাজারে চালের দাম কম রয়েছে যার ফলে দেশের বাজারে চালের দাম কমে আসতে পারে। তবে চাল আমদানির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো একটি শিথিল করা দরকার। বিশেষ করে সমুদয় চাল আমদানি করে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারজাত করতে হবে। যে প্যাকেটে চাল আমদানি করা হবে সেই প্যাকেটেই বাজারে বিক্রি করতে হবে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নামে প্যাকেট করে বিক্রি করা যাবে না। প্রতিদিনের চাল আমদানি বিক্রি ও মজুদের তথ্য স্থানীয় খাদ্য অফিসে জমা দিতে হবে। 

তবে বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে ভারত শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলেও তারা কিন্তু চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে নুন্যতম রপ্তানি মূল্য প্রতি টনের জন্য ৪৯০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে রেখেছে। এতে করে কম দামে চাল কিনলেও আমাদের বাড়তি পেমেন্ট দিতে হবে। যার কারণে সকল আমদানিকারক চাল আমদানি করতে উৎসাহিত বোধ করবে না। তাই সরকারের নিকট দাবি ভারতীয় সরকারের সাথে আলোচনা করে নূন্যতম রপ্তানি মূল্য প্রত্যাহার করে নিলে চাল আমদানি যেমন বাড়বে তেমনি দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারি সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন,ইতোমধ্যেই খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন। যেসব আমদানিকারক বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের অনেকে চাল আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অনুমোদন পাননি আগামী রবিবার হয়তোবা অনুমোদন দিতে পারে। এরপর আমদানিকারকরা এলসি খুলে চাল আমদানি করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত,চাল আমদানিতে ৬২.৫ ভাগ শুল্ক আরোপ থাকায় ও আমদানির অনুমতি না থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গতবছরের ৩০ শে মার্চ এর পর থেকে চাল আমদানি সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত