তিন ম্যাচের প্রথমটিতে হারের পর অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতে নিল পাকিস্তান। গতকাল রবিবার তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের হেসেখেলে ৮ উইকেটে হারিয়েছে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল। অস্ট্রেলিয়াকে ১৪০ রানে অলআউট করে পাকিস্তান ম্যাচ জিতেছে ১৩৯ বল হাতে রেখে। ২০০২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাকিস্তান প্রথম সিরিজ জিতল। ২০০২ সালে সিরিজ জেতা পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেন ওয়াকার ইউনূস, ২২ বছর পর রিজওয়ানের নেতৃত্বে সিরিজ জিতল পাকিস্তান। সব মিলিয়ে এই দুটিই সাফল্য পাকিস্তানের দেশটিতে।
অ্যাডিলেডের মতো পার্থেও পেসাররা দাপট দেখিয়েছেন। আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া হারিস রউফ নেন ২৪ রানে ২ উইকেট। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই পাকিস্তানি পেসারদের তোপের মুখে পড়েন স্বাগতিক ব্যাটাররা। দলীয় ২০ রানে ফ্রেজার ম্যাগার্ককে (৭) দিয়ে শুরু, এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়েছে। সর্বোচ্চ ৩০ রান করেছেন লোয়ার মিডল অর্ডারে নামা শন অ্যাবট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান আসে ওপেনার ম্যাথু শর্টের ব্যাট থেকে। অস্ট্রেলিয়ার ছয় ব্যাটার দুই অঙ্কেই যেতে পারেননি। হারিস ছাড়া শাহিন আফ্রিদি আর নাসিম শাহ ৩টি করে উইকেট নেন। তবে আফ্রিদির খরচ ৮.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ৩২ রান আর নাসিম শাহ ৯ ওভারে দিয়েছেন ৫৪ রান।
রান তাড়ায় ৮৪ রানের ঝলমলে ওপেনিং জুটি উপহার দেন সাইম আইয়ুব (৪২) আর আব্দুল্লাহ শফিক (৩৭)। দুজনকেই আউট করেন ডানহাতি পেসার ল্যান্স মরিস। এরপর বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের অবিচ্ছিন্ন ৫৩ বলে ৫৮ রানের জুটিতে ২৬.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। বাবর ৩০ বলে ২৮ আর রিজওয়ান ২৭ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।
তিন ম্যাচে ১০ উইকেট শিকারি সিরিজ সেরা হারিস বলেন, ‘পাকিস্তান দলের কাছে (এই সিরিজ জয়) এর মাহাত্ম্য অনেক কারণ, আমরা বেশ কিছু মাস ধরে ধুঁকছিলাম। আমরা সমর্থকদের জন্য খেলি, যারা আমাদের মাঠে এসে সমর্থন দেন তাদের জন্য খেলি। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা কঠোর অনুশীলন করেছি। পেসাররা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি যেটি কাজে দিয়েছে।’
হারিস, নাসিম ও শাহিন শাহরা সিরিজে উইকেট নিয়েছেন ২৬টি, যা পাকিস্তানের হয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সর্বোচ্চ। বোলারদের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি রিজওয়ান, ‘সব কৃতিত্ব বোলারদের। অস্ট্রেলিয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ নয়।’ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যান ফিফটি করতে পারেননি। দলটির ওয়ানডে ইতিহাসে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এমন ঘটনা এটাই প্রথম। সিরিজে তাদের ব্যাটিং গড় ১৬.৮৮। ঘরের মাঠে এটিও তাদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
ম্যাচ শেষে রিজওয়ান বলেন, ‘আমার জন্য বিশেষ মুহূর্ত। দেশের মানুষ খুব খুশি হবে। গত দুই বছর আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো খেলতে পারিনি।’
