দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনরত দুটি সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট’ নামে নতুন প্লাটফর্মের ঘোষণা দিয়েছে। আজ রবিবার বিকেলে চট্টগ্রামের প্রবর্তক ইসকন মন্দিরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ জোট আত্মপ্রকাশ করে। জোটের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সংখ্যালঘু জোট আন্দোলন আসছে। এই দুটি জোট এখন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট’ এর ব্যানারে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সরকারের কাছে ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান। দাবিগুলো হলো
১) অবিলম্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ
২) গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাজারি গলিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কথিত হামলা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর গভীর রাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন
৩) এ ঘটনায় আটক ও নির্যাতনের শিকার সনাতনীদের মুক্তি ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা
৪) এ ঘটনায় আটককৃতদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা
৫) এ ঘটনাকে পুঁজি করে গভীর রাতে নিরীহ সনাতনীদের ওপর নির্যাতনে জড়িত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেও বিরূদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
৬) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যৌক্তিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সাধু-সন্ত ও সংগঠকদের বিরূদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নবগঠিত জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, সনাতনী সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজন করে। সমাবেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের লক্ষ লক্ষ নর-নারী অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ গণজমায়েতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জাতীয় পতাকা অবমাননার কথিত অভিযোগে ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি গত ৩০ অক্টোবর কোতোয়ালী থানায় চট্টগ্রামের পুণ্ড্ররীক ধামের অধ্যক্ষ, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষসহ ১৯ জন সংগঠকের বিরূদ্ধে একটি বানোয়াট রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কারো বিরূদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা যায় না। এই মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে আইনের সেই প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। মূলত সনাতন সম্প্রদায়ের চলমান আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতৃবৃন্দের বিরূদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ সনাতনী সমাজ দেশে ও বহির্বিশ্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
এ ছাড়া গত ৫ নভেম্বর হাজারি গলিতে জনৈক ওসমান আলীর একটি উসকানিমূলক ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করার প্রেক্ষিতে সনাতনী সমাজ শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু পোস্ট দাতার বিরূদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে রাতের আঁধারে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলা চালায় ও ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে তাদের ওপর নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, শনাক্তে রেকর্ড
গিলেস্পির বিদায়, পাকিস্তানের কোচ হচ্ছেন আকিব জাভেদ
জাতির উদ্দেশে ভাষণে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা