আইসিটি অধ্যাদেশ

দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ রেখে খসড়া সংশোধনী চূড়ান্ত আজ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৬ এএম

রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশের বিধান রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশের সংশোধনী প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়াটি অনুমোদনের জন্য আজ বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদ এটি গ্রহণ করলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার এটি আইনে পরিণত হবে। তারপর প্রক্রিয়াগত কারণে যত সময় লাগে তত সময় অপেক্ষা করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন : আইন মন্ত্রণালয়ের কৈফিয়ত’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয়ের গত ১০০ দিনের কর্মকা-ও তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা।

আইন উপদেষ্টা জানান, অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ থাকলে ও আদালত মনে করলে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ সুপারিশ করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’-এ কিছু মারাত্মক বিচ্যুতি রয়েছে বলে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছিল, সুশীল সমাজও বিভিন্ন সময়ে বলেছিল। সরকার এটিকে সংস্কার করে দেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য করে তোলার ব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে যেন সুবিচার সুনিশ্চিত হয় সে ব্যবস্থাও করেছে। এ জন্য ব্যাপক পরামর্শ করা হয়েছে। একটি অসাধারণ সংশোধনী আনার চেষ্টা করা হয়েছে, যা এটির বিচারের গুরুত্ব, যৌক্তিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়াবে।’

রাজনৈতিক দলের শাস্তির বিষয়ে ব্যাখ্যায় উপদেষ্টা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট যেসব কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক দলের বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন রয়েছে, যেমন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, এগুলোর কথা খসড়ায় উল্লেখ করা নেই; কিন্তু যদি মনে করে, তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারে। এমনটা নয় যে, আদালত শাস্তি দেবেই। আদালত যদি মনে করে, তাহলে শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করবে শুধু। এটা খসড়ায় রাখা হয়েছে। তবে এটি উপদেষ্টা পরিষদের ওপর নির্ভর করে। উপদেষ্টা পরিষদ এটি রাখবে কি না বা কী ফর্মে রাখবে তা তাদেরই বিষয়।’

‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে-২০২৪’ প্রণয়নের কাজও চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। সাইবার নিরাপত্তা আইন রহিত হলে ওই আইনের অধীনে দায়ের করা সব স্পিচ-অফেন্সের মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করে এ আইন প্রত্যাহারে আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করেছি। তবে হ্যাকিং বা কম্পিউটার অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলো চলমান থাকবে।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ক’দিনে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে ৫ জন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন বিচারপতি এবং অধস্তন আদালতে ১০৯ জন বিচারক নিয়োগে সাচিবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’ 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) বিস্ফোরক মামলা পরিচালনার জন্য ২০ জন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ড. আসিফ নজরুল।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনে সহায়তা করেছে আইন মন্ত্রণালয়। চিফ প্রসিকিউটরসহ ১১ জন প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে। তাছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে ২৩৯ জন আইন কর্মকর্তা তথা সহকারী  অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ও গত জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানদ- নিশ্চিতের লক্ষ্যে রোম স্ট্যাটিউট এবং আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সুপারিশের আলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। এ আইন সংশোধনী বিষয়ক অধ্যাদেশ আজ বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তোলা হবে বলেও জানান তিনি। অধ্যাদেশটি পাস হলেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগের আইনের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা যায়, নতুন আইনের মাধ্যমেই পরবর্তী বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে।’ 

তিনি বলেন, অধস্তন আদালতের বিচারক, রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব সংগ্রহ করা হয়েছে। এ হিসাব বিবরণী যাচাই করা হচ্ছে।

লেজিসলেচার ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৪ এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ-২০২৪সহ মোট ১০টি অধ্যাদেশ প্রণয়নে ভেটিং সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ৯৫টি প্রজ্ঞাপন, ৩৩টি বৈদেশিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকও ভেটিং করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর এ কমিশনের বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। আশা করছি, কমিশন বিচার বিভাগের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রস্তাব দ্রুত পেশ করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত