দুই দফা দাবিতে আমরণ অনশনে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৪ এএম

দুই দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অনশন শুরু করেছেন দেশের ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৈষম্যবিরোধী সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী পরিষদের ব্যানারে তাদের আমরণ অনশন শুরু হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত এ অনশনে যোগ দেন ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন চলবে।

এ ব্যাপারে গতকাল রাত ১২টায় ফিজিওথেরাপিস্ট চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, শিক্ষার্থীদের এই অনশন গতকাল সারা রাত চলবে। আজ বৃহস্পতিবার এই অনশনে আরও শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন টানা চলবে।

এই চিকিৎসক জানান, দুই দফা দাবি আদায়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ফিজিওথেরাপি শিক্ষক ও চিকিৎসকরা।

দাবি দুটি হচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ ও সরকারি ফিজিওথেরাপি কলেজ বাস্তবায়ন। এই কলেজের জন্য আগেই জায়গা বরাদ্দ ও কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আর কলেজ নির্মাণকাজ এগোয়নি।

এই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক আরও বলেন, এর আগে এই দাবি নিয়ে পরিষদ স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে চায়। আলোচনায় বসা সম্ভব না হওয়ায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুটি আলাদা আলাদা বিশেষায়িত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রথম দুটি সভা অনুষ্ঠিত হলেও পরে আর এ-সংক্রান্ত কোনো সভা হয়নি। এভাবে দেড় মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হয়েছে। পরিষদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ ব্যাপারে আর কোনো সাড়া দেননি। ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে আমরণ অনশনে বসেছে ।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবরুদ্ধ করেন সরকারি-বেসরকারি ১৭টি প্রতিষ্ঠানের

ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা। তারা অধিদপ্তরের দুটি প্রবেশদ্বারই বন্ধ করে দেন। ফলে কেউ অধিদপ্তর ভেতরে ঢুকতে বা বের হতে পারেননি।

ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের অধীনে পাঁচ বছরের ফিজিওথেরাপি কোর্স চালু করে সরকার। কিন্তু সরকারি কোনো হাসপাতালেই বিএসসি ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য কোনো পদ তৈরি করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর সহস্রাধিক ফিজিওথেরাপিস্ট বের হলেও সরকারি হাসপাতালে সেবা দিতে পারছেন না তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি চালুর উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার। এজন্য মহাখালীতে জায়গাও নির্ধারিত হয়। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে অদৃশ্য কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই জায়গায় নার্সদের জন্য ভবন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত