রাজশাহীতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর অভিযোগ নেতাদের

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:০০ পিএম

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য চিহ্নিত জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কুৎসা রটিয়েছেন। ছাত্রদলের সুনাম ও ঐতিহ্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ছাত্রদলকে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটির মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন নগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি।

এ সময় নগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহি, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন, রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির, ছাত্রদল নেতা আদিউল ইসলাম সজিব, মাহমুদুল হাসান লিমন, আহমেদ রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর কালেক্টরেট মাঠ এলাকায় সোহেল রানা হামলার শিকার হন। পরে সোহেল রানা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন ছাত্রদল নেতারা। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজশাহী শহরে কোনো সমন্বয়ক পরিষদ গঠিত হয়নি। ঐ সময় সকল আন্দোলন নিয়ন্ত্রিত হতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কদের মাধ্যমে। তবে রাজশাহী কলেজের যেসব শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে থেকেছেন তাদের কেউ কেউ নিজেদের রাজশাহীর সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। সোহেল রানা তেমন একজন। আগে তিনি জাসদ ছাত্রলীগ করতেন।  

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে মারধর করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে সমন্বয়কদের সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে নিজেকে সমন্বয়ক দাবি করে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে সোহেলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে একাধিকবার সতর্কও করেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে শিক্ষার্থীরা সতর্ক করলে তাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে পিটিয়ে জখম করলে পালিয়ে গিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে তিনি এ ঘটনার জন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। 

এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার ছাত্রদল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদল নেতা জ্যাকি বলেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে ভুয়া সমন্বয়ক পরিচয় দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় পতিত স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে পরিচিত ছাত্র সংগঠন নামের কলঙ্ক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মীরা খোলস পাল্টে সমম্বয়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট পরবর্তীতে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা নিজেকে সমন্বয়ক হিসেবে দাবি করে রাজশাহী কলেজসহ নগরীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেকে সমন্বয়ক হিসেবে দাবি করলেও স্পষ্টত সে জাসদ ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের তথ্য অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত রাজশাহী জেলা ও মহানগরে কোনো সমন্বয়ক কমিটি নেই। 

উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রদল নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক কমিটি গঠনকে ঘিরে নিজেদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ বিরোধে জড়ায়, একপর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে চিহ্নিত জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা ছাত্রদল রাজশাহী কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কুৎসা রটনা করেন। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ওই ঘটনার সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজশাহী কলেজ শাখার কোনো নেতাকর্মী সম্পৃক্ত নয়। ছাত্রদলের সুনাম ও ঐতিহ্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানাকে নিয়ে এহেন ঘৃণা ও নেক্কারজনক ঘটনায় ছাত্রদলকে জড়ানো হয়। 

জ্যাকি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে রাজশাহীতে অংশগ্রহণকারী আব্দুর রহিমের গণমাধ্যমে দেওয়া ভাষ্যমতে তিনি বলেন, 'আজ একটা গ্রুপ একজন ভুয়া সমন্বয়ক এনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি করার চেষ্টা করছিল। ওই ভুয়া কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের বাড়ি রাজশাহী। সে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ভুয়া সমন্বয়ককে গণপিটুনি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার জের ধরেই জাসদ ছাত্রলীগের নেতা সোহেল রানার ওপরে কে বা কারা হামলা করেছে।'

এ থেকে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার ওপর হামলার ঘটনায় রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নাই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদল কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় ছাত্রদল জিতে টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলেও উল্লেখ করেন নগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত