তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে অ্যান্টিগায় দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫২ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, ক্যারিয়ারের ১৬তম টেস্টে এসে প্রথমবারের মতো ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বের দেখা পেয়েছেন এ ফাস্ট বোলার।
অ্যান্টিগা টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় ইনিংসে সকালে আর ব্যাট করতে নামেনি বাংলাদেশ। ৯ উইকেটে ২৬৯ রান করা বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ফলোঅন এড়িয়েছে, তবে সকালে উইকেটের আর্দ্রতা আর নতুন বলের চকচকে অবস্থাটা কাজে লাগাতে তৃতীয় দিনে আর ব্যাট করতে নামেনি। কৌশলটা কাজে লেগেছে বাংলাদেশের। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই তাসকিন ২ ও শরিফুল ইসলাম ১ উইকেট তুলে নেন। বিরতির পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন তাসকিন, সঙ্গে হাত লাগান মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। তাতেই ৪৬.১ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য ৩৩৪ রান। সময় আছে চতুর্থ দিনের বাকি ও গোটা পঞ্চম দিন।
বাংলাদেশের কৌশলী সিদ্ধান্তই অ্যান্টিগা টেস্টে এনেছে নাটকীয় পরিবর্তন। চতুর্থ দিন সকালে ব্যাট করতে না নেমে পেসারদের স্ুেযাগ তৈরি করে দেন অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ। উইকেটের আর্দ্রতা, মেঘলা আকাশ আর চকচকে নতুন বলের সমন্বয়ে ক্যারিবীয়দের অল্পতেই গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা। তাসকিন ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ১৪.১ ওভারে ৬৪ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। শরিফুল ও তাইজুল ইসলাম ১টি করে উইকেট নিয়েছেন, মিরাজের জোড়া শিকার।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে দ্রুত ৩ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ খানিকটা আশা দেখছিল কেভম হজ আর আলিক আথানজের ব্যাটে। এ দুজন চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ৫০ রান। জুটিটা ভাঙেন তাসকিন, হজকে বাধ্য করেন লিটনের হাতে ক্যাচ দিতে। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান জাস্টিন গ্রিভসকে মাত্র ২ রানে বোল্ড করেন তাসকিন। জশুয়া ডি সিলভাও হাসান মুরাদের দারুণ ক্যাচের শিকার হয়েছেন তাইজুলের বলে। আগের ইনিংসে প্রতিরোধ গড়া কেমার রোচও ১২ রানে তাসকিনের শিকার। তাকে বোল্ড করেই ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসের ইতি টেনেছেন তাসকিন। এরপর ইনিংস বিরতি এবং চা বিরতি শেষে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। ৩৩৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ব্যর্থতার বৃত্তে পাক খাওয়া জাকির হাসান বোল্ড হয়েছেন রোচের করা ইনিংসের পঞ্চম বলেই। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও জাকির প্লেইড অন, আগেরবার বোলার ছিলেন জেডন সিলস আর এবার রোচ। আগের ইনিংসে ১৫, এবার শূন্য। মাহমুদুল হাসান জয় প্রথম ইনিংসের (৫) মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ। সিলসের শিকার হয়ে ফিরলেন ৬ রানে। অলআউট করার পরিতৃপ্তিটা তাই স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ।
