চিকিৎসার নামে ৮৭ জনকে ধর্ষণ, ২০ বছরে আরও যেসব কাণ্ড

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:২২ পিএম

চিকিৎসার নাম করে ২০ বছর ধরে একের পর এক নারীকে ধর্ষণ করেছেন এক স্ত্রীরোগ চিকিৎসক। আর্নে বাই নামে নরওয়ের ওই বাসিন্দা ৮৭ জন নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণ ছাড়াও ভয়াবহ সব অভিযোগ জমা পড়েছে আর্নের বিরুদ্ধে। 

নরওয়ের ফ্রোস্টা নামের একটি ছোট্ট গ্রামের বাসিন্দা এই স্ত্রীরোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণের দুটি মামলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলা দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাটিকে নরওয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যৌন কেলেঙ্কারি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর্নের বিরুদ্ধে মোট ৯৪ জন নারীকে যৌন নিগ্রহ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ জন তার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এই কুকীর্তি চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, আর্নের শিকারদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সি ছিল এক ১৪ বছরের কিশোরী। তার যৌন লালসার হাত থেকে রেহাই পাননি এক বৃদ্ধাও। ৬৭ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে তার লালসার শিকার হতে হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় আর্নের কাছ থেকে ছয় হাজার ঘণ্টার বেশি ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পেয়েছে পুলিশ, যার মধ্যে তার স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষার সমস্ত রেকর্ডিং রয়েছে। রোগীদের অজান্তেই তাদের চিকিৎসার দৃশ্য রেকর্ড হয়ে যেত ক্যামেরায়।

রেকর্ডিংগুলো পরীক্ষা করে পুলিশ জানিয়েছে, এতে এমন ভিডিও তোলা হয়েছে, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। চিকি‌ৎসকের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একাধিক ক্যামেরার হদিস পায়। এগুলো ব্যবহার করেই রোগীদের চিকিৎসার সময় ভিডিও তৈরি করতেন আর্ন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের পরীক্ষা করার সময় নানা উদ্ভট পদ্ধতি বেছে নিতেন আর্নে। সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিকভাবে নারীদের যৌনাঙ্গ পরীক্ষার জন্য ছোট গোলাকার বোতল এবং নলের মতো বস্তু ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে রোগীদের পক্ষ থেকে।

বিগত কয়েক বছর ধরে নিজের গ্রামে বসেই এই কাণ্ড ঘটিয়ে গিয়েছেন এই চিকিৎসক। একটি-দুটি করে অভিযোগ জমা পড়তেই বহু নারীই এই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরব হন। আর্নের কাছে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নানা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

একজন নারী অভিযোগ করেন, গলায় ব্যথার জন্য আর্নের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জ্ঞান ফিরলে ওই নারী দেখেন, একটি বেঞ্চে অন্তর্বাস পরে শুয়ে রয়েছেন তিনি। যেহেতু আর্নে তাদের গ্রামের চিকিৎসক ছিলেন, তাই তিনি যা যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তা অক্ষরে অক্ষরে মেনেছিলেন ওই নারী।

‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় নারীদের তলপেটে মাসাজের নাম করে যৌন নিগ্রহ করতেন তিনি। নিজের চেম্বারে বসেই রোগী দেখার নাম করে যৌন লালসা মেটাতেন অভিযুক্ত চিকিৎসক।

বিচার চলাকালীনও আর্নেকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ২১ বছর কারাদণ্ড হতে পারে এই চিকিৎসকের। মাত্র ২ হাজার ৬০০ বাসিন্দা থাকেন নরওয়ের ফ্রস্টার নামের এই ছোট্ট শহরটিতে। আর্নে একজন নামজাদা ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি খ্যাতনামা চিকিৎসক হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই তা নাড়িয়ে দিয়েছে নরওয়ের এই ছোট্ট জনপদের বাসিন্দাদেরও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত