ভারত থেকে আমদানি শুরুর পর পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমল

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৫৪ পিএম

স্লট বুকিং নিয়ে ঝামেলার কারণে দু’দিন বন্ধের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে বন্দরের পাইকারি পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। এদিকে পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ।

শনিবার হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইন্দোর ও বেলোরি জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ৬৮ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে আর সাউথের বেলোরি জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা দরে। যা বন্ধের আগেও একই দামে বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে হিলির খুচরা বাজারে দেখা গেছে, আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে, যা দু’দিন আগেও ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

পেঁয়াজ কিনতে আসা আহসান হাবিব বলেন, দেশীয় পেঁয়াজের দাম বাড়তির কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ দিয়েই পরিবারের চাহিদা মিটাচ্ছিলাম। ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দাম বেড়ে যাওয়া শুরু করলো। যে পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকা কিনলাম আগের দিন আমদানি বন্ধের খবরে তা বেড়ে ৮০ টাকা হয়ে গেল। আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম আবারও ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নেমেছে, যার কারণে আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সুবিধা হয়েছে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা ইউসুফ আলী বলেন, দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী। যার কারণে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দিয়েই ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো হচ্ছিল। আমরা বন্দর থেকে যখন যে দামে কিনি সেই মোতাবেক বিক্রি করি। তবে দু’দিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বাড়তি দামে কেনায় বাড়তি দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছিল। তবে আবারও পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এতে করে পণ্যটির সররবাহ বাড়ায় দাম কমতির দিকে রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা আইয়ুব হোসেন বলেন, রবিবার বন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনেছিলাম প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে। তবে সোমবার ও মঙ্গলবার ভারত থেকে দু’দিন বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। তবে বুধবার থেকে আবারও পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। তবে দাম আগের মতই ৭০ থেকে ৭৫ টাকা রয়েছে। কোয়ালিটি ভেদে দু’একটা কম রয়েছে কিছু পেঁয়াজের দাম।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমাদনি অব্যাহত রেখেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার ও ভারতে নতুন পেঁয়াজ উঠায় বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত রবিবার হঠাৎ করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের প্রদেশে পেঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ার অজুহাতে রপ্তানি বন্ধ রাখতে স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয়। তার আগের স্লটে পেঁয়াজ আমদানি হলেও সোমবার ও মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টির সমাধান হলে আবারও স্লট বুকিং শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এতে করে বুধবার থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। বর্তমানে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এতে করে ভারতের বাজারেই পণ্যটির সররবাহ বাড়ায় দাম নিম্নমুখী রয়েছে। সামনের দিনে পেঁয়াজের দাম আরও কমতে পারে। বর্তমানে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রি হলেও পেঁয়াজের দাম কমে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় আসতে পারে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এসময়ে ব্যবসায়ীরা কি দামে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করছেন তা যাচাই-বাছাই করছি। কারও বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুনাফার প্রমাণ পেলে জরিমানা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত