গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ছাত্র-জনতা আবারও প্রমাণ করেছে এই দেশ কোনো স্বৈরশাসকের নয়, এই দেশ জনগণের। এ ক্ষেত্রে যে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, তা ধরে রাখা প্রয়োজন। এ জন্য গণতন্ত্রমনা সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপ জরুরি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণফোরামের সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান দলটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের জনগণ স্বপ্ন দেখছে স্বাধীন ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের। কোনো অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র যেন এ রক্তস্রোত বিজয় ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিক সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই অর্জনকে সাফল্যের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। আমি আশা করি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের ফলে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে সহযোগিতা করা সব রাজনৈতিক দল ও দেশের জনগণের নৈতিক দায়িত্ব, যাতে সংস্কার সুষ্ঠুভাবে করতে সক্ষম হয়।
সম্মেলনের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেছেন, সংস্কার নিয়ে কারও চিন্তা করার দরকার নেই, সংস্কার আমরা করব। ৩১ দফা সংস্কার এই বাংলাদেশে আমরা বাস্তবায়ন করব। নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী সংস্কারসহ যে কয়টি সংস্কার দরকার সেটা করতে সময় লাগবে না। তিনি বলেন, অন্তর্র্বর্তী সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি এবং আমরা সেটা করতে চাই এই কারণে, এই অন্তর্র্বর্তী সরকারের শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এজন্য আমাদের এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আজ যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা জাতির জন্য সুখবর নয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে তার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য। এটা ছিল আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ। আমি বলব আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভকে কবর দেন কিন্তু সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকে কবর দিতে যাইয়েন না। আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকেও আওয়ামী ন্যারেটিভ থেকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধান আজ ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। কোন কোন বিষয় সংশোধন করা উচিত তা নিয়ে একটি কনভেনশন হতে পারে। এছাড়া সংবিধান সংস্কার করা বা পুনর্লিখনের ক্ষমতা আপনাদের নেই। এ সময় তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এখানে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের অপূর্ণ আকাক্সক্ষার বিস্ফোরণ। আমরা সিল মারা গণতন্ত্র চাই না। আপনি গিয়া সিল মারবেন আর এমপি মন্ত্রী চোর ডাকাত বানাবেন এই গণতন্ত্রের কথা বলা হয় না। বলা হয়েছে যেই হাত দিয়া সিল মারব সেই হাত দিয়া যেন ভাত খেতে পারি। আমার সন্তানের হাতে যেন কলম থাকে কাগজ থাকে। যেই হাতে কাজ নাই সেই হাতে সিল মারার কোনো দামও নাই।
