শুটার সাদিয়ার অকালমৃত্যু

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৪১ এএম

মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছিলেন আগে থেকেই। আগেও দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ২০১৭ সালে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসায় সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও এসএ

গেমসে সোনাজয়ী শুটার সৈয়দা সাদিয়া সুলতানার মৃত্যু হয়েছে অপঘাতে। গতকাল সোমবার বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন সাদিয়া। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় দুপুরের দিকে মৃত্যু হয় তার। তার বয়স হয়েছিল ৩১ বছর।

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় চট্টগ্রামে নিজ বাসায় একপ্রকার বন্দি জীবনযাপন করছিলেন এই প্রতিভাবান শুটার। জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরে বেঁধে রাখতেন। গতকাল সকালে ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ছাদে গিয়ে লাফ দেন সাদিয়া। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারই ছোট ভাই জাতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সিবগাত উল্লাহ।

সিবগাত অবশ্য জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় সাদিয়ার, ‘সকালে সাধারণত ঘরের দরজা বন্ধই থাকে। আজ সকালে যে কী হলো...। দোতলার ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে সে। পরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।’

২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলগত ইভেন্টে সোনাজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন সাদিয়া। এরপর দিল্লি কমনওয়েলথ শুটিংয়ে দলগত সোনা জেতেন একই বছর। যদিও প্রতিভাবান এই শুটারের ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘায়িত হয়নি। ২০১৩ বাংলাদেশ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা জিতেছিলেন তিনি। এরপর একটি-দুটি জাতীয় আসরে অংশ নেওয়ার পর থেকেই শুটিং অঙ্গনে তার খোঁজ মেলেনি। পরে জানা যায়, তিনি বিষন্নতায় ভুগছেন। পরিবার তাকে বিয়েও দিয়েছিলেন। তবে ২০১৭ সালে ফের আলোচনায় আসেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে। ১৫ অক্টোবর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন নিজেই। পরে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে দীর্ঘ চিকিৎসায় সুস্থ হন তিনি। তবে মানসিক রোগ থেকে সেরে ওঠেননি। এমনকি কোল আলো

করে পুত্রসন্তান এলেও উন্নতি হয়নি তার। সুস্থ হলেও নিজেকে গত সাত বছর আড়ালেই রেখেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত