কমিটিতে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে নেতারা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৫ এএম

প্রায় দেড় মাস কমিটিবিহীন অবস্থায় চলছে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। সংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন বলয়ে। আগামীতে সংগঠনের পদ-পদবিপ্রত্যাশীরা পা রাখছেন সতর্কভাবে। তবে সব ছাপিয়ে নগর যুবদলের কমিটিতে মূল নেতৃত্বে আসতে নানাপর্যায়ে জোর লবিং ও তদবির চালাচ্ছেন বেশ কয়েকজন নেতা। সংগঠনের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চলতি ডিসেম্বর মাসেই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কবে নাগাদ নতুন কমিটির ঘোষণা আসবে সেটা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে যতদূর জানি, কেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে কমিটি না থাকলেও মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা আগের মতো ঐক্যবদ্ধ আছেন। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটা কর্মসূচি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পালন করেছি। যেখানে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর পুরাতন চান্দগাঁও এলাকায় একটি টার্ফের আধিপত্য নিয়ে নগর যুবদলের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ওই ঘটনার জের ধরে সেদিনই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এবং কৃষিবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আমিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, কমিটি না থাকলেও যুবদলের ব্যানারে গত দেড় মাসে চট্টগ্রাম মহানগরীতে একাধিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আগামীতে শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী নেতাদের এসব কর্মসূচিতে নিজস্ব অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় যুবদলের উদ্যোগে গত ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে পালিত হয়েছে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। সেখানেও পদপ্রত্যাশীদের সরব উপস্থিতি ছিল। মহানগর যুবদলের আগামী কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে আসতে আগ্রহী অর্ধডজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ চট্টগ্রামের একাধিক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার অনুসারী। আবার কারও সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে। যাদের নাম আলোচনায় আছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, নগর ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল হোসেন।

তাদের মধ্যে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি কারও বলয়ের হিসেবে পরিচিত না হলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে তার। অন্যদিকে এমদাদুল হক বাদশাও ডা. শাহাদাত-বলয়ের হিসেবে পরিচিত।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলালের অনুসারী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদের। চট্টগ্রাম নগর বিএনপির বিভিন্ন নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রয়েছে অন্যদেরও। জানা যায়, সবাই যে যার মতো করে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম নগর বিএনপির বর্তমান ও সাবেক একাধিক নেতাও নিজের বলয়ের লোকজনকে যুবদলের নেতৃত্বে আনার জন্য নানাভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত