তারেক রহমান বললেন

উসকানিতে পা না দিয়ে সংযম দেখাতে হবে

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৫ এএম

ভারতের ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশবাসীকে উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ আহ্বান জানান তিনি।

ওই পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। কিন্তু আমরা মূলত ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের দেশ ছিলাম এবং থাকব, যেখানে জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত। আমি আমার সহকর্মী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং কোনো উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেছেন, ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারতের রাজনৈতিক মহল এবং তাদের সংবাদমাধ্যমগুলোয় উসকানিমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত অপতথ্যে ছেয়ে আছে, যা ক্রমাগত বাংলাদেশবিরোধী মনোভাবকে উসকে দিচ্ছে। আগরতলায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে সর্বশেষ হামলার মধ্য দিয়ে অপপ্রচারের প্রভাব ফুটে উঠেছে, যা প্রতিবেশীদের মধ্যে শুধু বিভেদই সৃষ্টি করবে।’

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের (অংশীদার) অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে প্রায় ২০০ মিলিয়ন (২০ কোটি) জনসংখ্যার একটি অস্থিতিশীল বাংলাদেশ কোনো দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কারণ কী, তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে কী ঘটছে এবং কেন নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা অপরিহার্য, তা বস্তুনিষ্ঠভাবে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকার কথা জানিয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং কোনো উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

দুর্নীতির থাবা থেকে দেশকে বের করে আনার প্রত্যয় : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘যেভাবেই হোক দুর্নীতি রোধ করতে হবে। দুর্নীতির কালো থাবা থেকে দেশ ও জনগণকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষার সমস্যা দেখা দেয়। পাঠ্যবইয়ে বাংলা ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরকেটি ভাষা অবশ্যই শেখানো হবে। এতে দেশের বাইরে কর্মসংস্থানের সমস্যা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাদের হাতের লেখা ও আর্টের প্রতি জোর দেওয়া হবে।’ গতকাল বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্ততা কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

৬০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০ শিক্ষার্থী এই কর্মশালায় অংশ নেন। ৩১ দফা ও বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কী কী উদ্যোগ নেবে তা কর্মশালায় উঠে আসে। তারেক রহমানসহ প্রশিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর ওপর জোর দেবে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জোর দেওয়া হবে। যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। যাতে শিক্ষার মান বাড়ে এবং শিক্ষার্থীরা সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ধারণা লাভ করে।’

নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ড সবাই পাবে। প্রতিটি পরিবারের মা কিংবা স্ত্রীর নামে এই কার্ড দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে দেশীয় উৎপাদনশীল পণ্য বিতরণ করা হবে। মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে রাষ্ট্রের সংস্কার কার্যক্রম কাজে আসবে। এছাড়াও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষকদের ফার্মার্স কার্ড দেওয়া হবে। এতে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে, তাদের ডাটাবেজের আওতায় আনা হবে। রাষ্ট্র থেকে যত বেশি সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।’

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত