ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমুখী, এখানে কথা বলার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। এই সম্পর্ককে শুধু একটি মাত্র বিষয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অভিন্ন আকাক্সক্ষা পূরণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তার দেশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তলবে হাজির হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিকে নিরাপত্তাহীনতাজনিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। সোমবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত ও বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পুলিশ। একইসঙ্গে তিনজন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড ও ডিএসপি পদমর্যাদার এক অফিসারকে ‘ক্লোজড’ করা হয়েছে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এই তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশপ্রধান (সুপারিনটেনডেন্ট) কে কিরণ কুমার।
বাংলাদেশে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে সভা ডেকেছিল হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠন। এ সময় সহকারী হাইকমিশনে হামলা করে একদল বিক্ষোভকারী। তারা সেখানে ভাঙচুরের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় গতকাল বিকেল ৪টায় প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকার সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। আধা ঘণ্টার মাথায় মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও দেশের অন্যত্র উপ বা সহকারী হাইকমিশনগুলোর নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে সরকার।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক বহুমুখী এবং আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। একে আমরা শুধু একটিমাত্র বিষয়ে সীমাবদ্ধ করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিকার অর্থে একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক চাই। এখানে অনেক বিষয় রয়েছে। অনেক বিষয়ে একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে। পরস্পরের ওপর এই নির্ভরশীলতাকে আমরা উভয়ের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাই। আমরা আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের দুদেশই উপকৃত হয়। এখানে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতিও রয়েছে।’
প্রণয় ভার্মা বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভারতের জন্য ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ যা ভারত সবসময় বলে আসছে। এটা খুবই বিস্তৃত সম্পর্ক, বহুমুখী সম্পর্ক এবং আমি যেমনটা বলেছি, আমরা এটাকে নির্দিষ্ট ইস্যু বা এজেন্ডার মধ্যে নামিয়ে আনতে পারি না। আমরা সত্যিকারভাবে সামনের পথচলায় ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। অনেক কিছু আমরা করছি। আমাদের অনেক ক্ষেত্রে পরস্পর নির্ভরশীলতা রয়েছে এবং আমরা এটির ওপর ভিত্তি করে পরস্পরের কল্যাণ করতে চাই। এবং আমরা এটা নিশ্চিত করব, আমাদের সহযোগিতা দুদেশের উপকার করছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত দুমাসে দুদেশের মধ্যে অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রণয় ভার্মা। বাণিজ্য, নেপালের সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সম্পর্কে গতিধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি আমরা।’
উল্লেখ্য, হামলার ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ার ঘটনা ‘গভীর দুঃখজনক’। বাংলাদেশেও এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ হামলার ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হিসেবে অভিহিত করে এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘নিষ্ক্রিয়তার’ অভিযোগ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সব কূটনৈতিক মিশন ও সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানানো হয়।
আগরতলায় ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত : নিরাপত্তাহীনতাজনিত অবস্থার প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রথম সচিব ও দূতাবাসপ্রধান মো. আল আমীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ আদেশ জানানো হয়েছে। সোমবার আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নিল সরকার।
আগরতলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত, সাসপেন্ড তিন পুলিশ : বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ভারত পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনজন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড ও ডিএসপি পদমর্যাদার এক অফিসারকে ‘ক্লোজড’ করা হয়েছে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে।
এই চার পুলিশ সদস্যের মধ্যে তিনজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তারা হলেন এসআই দিলু জামাতি, এসআই দেবার্তা সিং ও এসআই জয়নাল হোসেন। তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে কাজ থেকে বিরত করা হয়েছে। তাকে সদর দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এই তথ্য জানিয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশপ্রধান (সুপারিনটেনডেন্ট) কে কিরণ কুমার।
কিরণ কুমার পিটিআইকে বলেছেন, আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় নিউ ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স (এনসিসি) থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ত্রিপুরা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম উল্লেখ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা ছাড়া আর কে কে সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল, তা ভিডিও ফুটেজ দেখে খুঁজে বের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের এক বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এরপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সহকারী হাইকমিশনে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফ (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) এবং রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ সেখানে আগেও ছিল। তাদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
সোমবারের ঘটনার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিবৃতিতে একাধিকবার পুলিশ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পুলিশ যথেষ্ট সংখ্যাতেই ছিল। সহকারী হাইকমিশন পরিসরের ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে ২৬০ জন ডিউটিতে ছিলেন। কিন্তু গোটা ঘটনা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যায়। আমরা কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভকারীদের বাধা দিই। তবে ওই কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়ে যায়।’
এদিকে একটি স্থানীয় সংগঠন গতকাল ‘বাংলাদেশ চলো’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সংগঠন এমন কর্মসূচির অনুমতি চাইলে তা দেওয়া হয়নি বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা কিরণ কুমার। ওই অভিযান যাতে আটকে দেওয়া যায়, সেটা মাথায় রেখে আখাউড়া অঞ্চলে পুলিশের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশিদের পরিষেবা দেবে না ত্রিপুরার হোটেলগুলো : বাংলাদেশিদের জন্য ‘সাময়িকভাবে’ পরিষেবা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হোটেলগুলো। অল ত্রিপুরা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামক একটি সংগঠন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এক জরুরি সভায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ২ ডিসেম্বর থেকে ত্রিপুরায় আগত বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো ধরনের হোটেল পরিষেবা দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরও বলেছে, ‘আমরা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সব ধর্মের প্রতি আমাদের সম্মান আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা বা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি এক শ্রেণির উগ্র জনগণ তীব্র অত্যাচার করছে। তারা দাবি করেছে যে এগুলো আগেও হতো। কিন্তু এখনকার মতো না। বর্তমান পরিস্থিতি ভীষণ উদ্বেগের। আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ থেকে আগত নাগরিকদের আমরা অতিথির সম্মান দিয়ে থাকি। সেখানে বাংলাদেশের এক শ্রেণির নাগরিকদের সে দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি এমন আচরণ নিন্দনীয়।’
পশ্চিমবঙ্গের ৮ জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত : পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এলাকার আট জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ভারত। বিএসএফ বলছে, উত্তরবঙ্গের আট জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকায় কাঁটাতার লাগানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি সূর্যকান্ত শর্মা সোমবার শিলিগুড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ডিআইজি (জেনারেল) কুলদীপ সিং, ডিআইজি (অপারেশন) সঞ্জয় শর্মা, ডিআইজি (পিএসও) সঞ্জয় পন্থ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় রয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। সেই সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। থার্মাল ক্যামেরা, নাইটভিশন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্তের ভারতীয় অংশের চেকপোস্টে বসানো হচ্ছে বায়োমেট্রিক লক।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সীমান্তে বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতা পাওয়া গেছে।
উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তের ১০ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। ২০২৩ সালে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার সীমান্তে মোট ১২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর চলতি বছর ১৯৪ জন বাংলাদেশি ও ১৯৭ জন ভারতীয় গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সীমান্তে সতর্ক বিজিবি : সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি কিংবা অপতৎপরতা রোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল দুপুরে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজিবি জানায়, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি কিংবা অপতৎপরতা রোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক বিজিবি।
ভারতের একটি স্থানীয় সংগঠন ‘বাংলাদেশ চলো’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ওই অভিযান যাতে আটকে দেওয়া যায়, সেটা মাথায় রেখে আখাউড়া অঞ্চলে পুলিশের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে।
ওপারের সড়কে বাঁশের বেড়া, যাত্রী চলাচল ব্যাঘাত : আমাদের আখাউড়া প্রতিনিধি জালাল হোসেন মামুন জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের ওপারে আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের সামনের সড়কে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রী চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। গতকাল সকালে ভারত থেকে আসা একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কী কারণে এ বেড়া দেওয়া হয়েছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যেই গতকাল সকাল থেকে এ বন্দর দিয়ে মাছ যায়। বাংলাদেশের পরিবহন সেখানকার বন্দর এলাকায় গিয়ে মাছ রেখে আসে। ভারতীয় পরিবহনে এসব মাছ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা। এক্ষেত্রে বাঁশের বেড়া অতিক্রম করে কীভাবে মাছ নিয়ে যাওয়া হয় এ নিয়ে চলছে আলোচনা।
একটি সূত্র জানায়, ওপারে বন্দর ও এর আশপাশে অতিরিক্ত বিএসএফ মোতায়েন রয়েছে। এ অবস্থায় বেলা ১১টা থেকে এপারে বিজিবিকেও সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যায়। এসবের মধ্যেই যাত্রীরা আসছেন। ভারত থেকে আসা কুমিল্লার কম্পানিগঞ্জের উজ্জ্বল দেবনাথ জানান, বন্দরে ঢোকার পথেই সড়কে বাঁশের বেড়া দেওয়া। এটি পার হয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়। তবে আসতে কেউ বাধা দেননি।
এদিকে ওপারে বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ত্রিপুরার হোটেল মালিকদের এক সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর আগে আইএলএস নামে একটি হাসপাতাল বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসেবা দেবে না বলে ঘোষণা দেয়।
রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তা জোরদার : আমাদের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়টিকে তিন স্তরের নিরাপত্তা দিচ্ছেন। পাশাপাশি এই কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ে আগে শুধু প্রধান ফটকে আগত ব্যক্তির ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’দেখত পুলিশ। পাশাপাশি তল্লাশিও করা হতো। তবে এখন এগুলোর পাশাপাশি হাইকমিশনারের কার্যালয় ঘিরেই বাড়তি আরও দুই স্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সহকারী হাইকমিশন ভবন যাওয়ার রাস্তার প্রবেশ মুখেই পুলিশের একটি পিকআপ রাখা। সেখানে তিনজন পুলিশ সদস্য কর্তৃক সহকারী হাইকমিশন ভবনের দিকে যাতায়াতকারী ও পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল আরোহীকেও থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেউ সহকারী হাইকমিশন ভবনে ঢুকতে হলে তাকে এখানে আরেক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তল্লাশি তো আছেই। সহকারী হাইকমিশনের ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ থাকলেই কেবল ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে পুলিশ।
সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের অদূরেই ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবন। সেখানেও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গেল কয়েক দিন ধরেই ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার পর পুলিশকে আরও সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, নগরীর বর্ণালী মোড়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে ভিসা প্রত্যাশীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না পাওয়ার কারণে এখানে ভিসার আবেদন আসা একেবারেই কমে গেছে। ভিসা আবেদন কেন্দ্রে অবশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবন এবং ভিসা আবেদন কেন্দ্র ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে আশপাশের এলাকা ঘিরে। এসব স্থাপনায় হামলার কোনো শঙ্কা নেই। তারপরেও আমরা সতর্ক আছি।’
