বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মামলাটি পুনরুজ্জীবনের আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও মোহাম্মদ শিশির মনির। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর ধার্য করেছে।
শুনানির বরাতে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘মূলত এই রিট পিটিশনটি জনস্বার্থে করা হয়নি। এটি করা হয়েছিল ব্যক্তিস্বার্থে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে। রিট করার মতো আইনগত এখতিয়ার আবেদনকারীদের নেই। আরেকটি বিষয় হলো নির্বাচন ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এই রিট পিটিশনটি হয়েছে। বিষয়টি তখনও ইসিতে বিচারাধীন ছিল। আজকে (গতকাল) শুনানিতে এ দুটো পয়েন্টে তুলে ধরা হয়েছে।’
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এ নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ২৫ রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ।
এ রায় স্থগিত চেয়ে জামায়াতের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে একই বছরের ৫ আগস্ট সেটি খারিজ হয়ে যায়। পরে ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াত। গত বছরের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াতের করা আপিল খারিজ করে রায় দিলে হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকে। আপিলের শুনানিতে জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় আদেশে সর্বোচ্চ আদালত উল্লেখ করে ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’। এরপর জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির মামলাটি পুনরুজ্জীবনে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর চেম্বার আদালতে আবেদনটি তোলা হলে আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়।
