মাঝে গাছ-খুঁটি রেখেই সড়ক সংস্কার, দুর্ঘটনার শঙ্কা

  • সড়কে চরম ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন
  • মরণফাঁদ রেখেই কাজ শেষ করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
  • সমাধান চেয়ে ইউএনও বরাবর দেওয়া হয়েছে চিঠি
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:০০ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি আঞ্চলিক সড়কের মধ্যে অন্তত আটটি বড় আকারের গজারি গাছ আর পাঁচটি বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই সড়ক প্রশস্তকরণ আর পিচঢালাই করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমন মরণফাঁদ রেখেই কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যস্ততম এ সড়কে চরম ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। এ বিষয়ে সমাধান চেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ইউএনও বরাবর একটি চিঠিও দিয়েছে। 

উপজেলা প্রশাসন বলছে, বনবিভাগ আপত্তি করায় সড়কে গজারি গাছগুলো রেখেই উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 

সড়কের মধ্যে গজারি গাছ আর বিদ্যুতের খুঁটি রেখে কাজ সম্পাদন হচ্ছে—এমন চিত্র চোখে পড়ে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর কাওরাইদ আঞ্চলিক সড়কে। সড়কের সাতখামাইর উত্তরপাড়া এলাকার তিনটি স্থানে আটটি গাছ আর সড়কের বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচটি খুঁটি চোখে পড়েছে। কালিগঞ্জের আমজাদ ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ সড়কের উন্নয়ণকাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। তারাই এখন দিনরাত কাজ করে চলছেন। 


সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সাতখামাইর বাজার থেকে কাওরাইদমুখীর দিকে একটু এগিয়ে গেলে গণকবর এলাকায় সড়কের ওপর একটি বিদ্যুতের খুঁটি দেখা যায়। আর একটু এগিয়ে গেলে সাতখামাইর উত্তরপাড়া গ্রামের তাজউদ্দীনের বাড়ির পাশে তিনটি গজারি গাছ পাওয়া যায়। পাশেরই আক্তার পাঠানের বাড়ির সামনে আরও তিনটি গজারি গাছ আছে। অন্যদিকে পাশের আশ্রাবআলী কাওমি মাদ্রাসার সামনেও দুটি গজারি গাছ রেখেই সড়ক প্রশস্তকরণ শেষে পিচঢালাইয়ের কাজ চলছে। এর আরও সামনে এগিয়ে গেলে ডালেশ্বর গ্রামের হাবিবুরের দোকানের সামনে একটি খুঁটি ও এর পাশে সাখাওয়াত মেলিটারির দোকানের সামনে আরেকটি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। ভিটিপাড়া ডাবলের মোড় পার হলেই সাদ্দামের বাড়ির পাশে একটি বিদ্যুতের খুঁটি সড়কে রেখেই পিচঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। এমন করে কাওরাইদের দিকে এগুলো সড়কঘেঁষা আরেকটি বিদ্যুতের খুঁটি চোখে পড়বে। এসব খুঁটিগুলো এ সড়কে চলাচলকারীদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। 

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এ সড়কের গাছগুলো সরানোর দাবি নিয়ে ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত দিয়েছে লোকজন। এ কাজে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের বাধা থাকায় গাছগুলো সড়কে রেখেই উন্নয়নকাজ শেষ হচ্ছে।’ 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমজাদ ট্রেডার্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা (প্রকৌশলী) আজাদ রহমান বলেন, এ সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মার্কিং করে নিরাপত্তা চিহ্ন ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, এ ব্যাপারে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সহযোগিতা করেননি। 

সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এলজিইডি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুট করেই বনের ভেতরের সড়কের কাজে হাত দেয়। এতে সবার মধ্যে অসহযোগিতা ও সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। আমরাও চাই উন্নয়নের কাজ হোক, তবে সেটা সবার সমন্বয় নিশ্চিত করে।’ 

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুস সামাদ বলেন, ‘এসব ব্যাপারে আমরা বনবিভাগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। তারা সড়কের গাছ কাটতে সহযোগিতা করেনি। এটা সংরক্ষিত বন বলে তারা গাছ কাটতে দিবেন না বলে জানায়। তারা কাজেও বাধা দিয়েছে। তাদের সঙ্গে এ নিয়ে বিতণ্ডায় জড়ালে মামলার ভয় থাকে। তাই আপতত গাছ না সরিয়েই উন্নয়ণকাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সড়কে বিদ্যুতের যে খুঁটিগুলো আছে, সেগুলো সরানোর প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটিগুলো সরানো হবে।’ 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত