‘আপা বিশ্বে নাম করেছে আমরা খুব খুশি’

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:০৩ পিএম

‘আমার সন্তান এই স্কুলে পড়ে। গাড়ি এসে বাড়ি থেকে স্কুলে নিয়ে যায়, আবার রেখে যায়। রিকতা আখতার বানু আপা খুব ভালো মানুষ। নিজের সন্তানের সঙ্গে যেভাবে মেশেন, এখানকার সব বাচ্চাদের সঙ্গেও তেমনভাবে মেশেন। শুনলাম আপা বিশ্বে নাম করেছে। আমরা খুব খুশি হইছি এই খবর শুনে।’ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রিকতা আখতার বানু প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের আবু বক্কর নামে এক শিক্ষার্থীর মা হোসনে আরা এসব কথা বলেন।

নিজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান তানভীন দৃষ্টি মনিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি না করাতে পারেননি রিকতা আখতার। সেই কষ্ট থেকেই উদ্যোগ নেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করবেন। সেই লক্ষ্যে ২০০৯ সালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় গড়ে তুলেন নিজের নামে বিদ্যালয়। যেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৪ জন। হাসপাতালে নার্সের চাকরি পাশাপাশি শ্রম ও মেধা দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন নিজের গড়া প্রতিষ্ঠানটিকে। তার এই মহৎ উদ্যোগের জন্য বিশ্বের কাছে দেশ ও নিজের সুনাম অর্জন করেছেন তিনি।

সম্প্রতি বিবিসির তালিকায় জলবায়ু কর্মী, সংস্কৃতি ও শিক্ষা, বিনোদন ও ক্রীড়া, রাজনীতি ও অ্যাডভোকেসি, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়। এতে বাংলাদেশের একমাত্র প্রভাবশালী নারী হিসেবে নাম থাকায় নিজের সংগ্রাম ও আবেগের কথা জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিন শাহ বলেন, বিবিসির তালিকায় বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আমার স্কুলে প্রতিষ্ঠা পরিচালক রিকতা আখতার বানু রয়েছেন। আমরা এই খবর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষক কী যে আনন্দে তা বোঝানো সম্ভব না। প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের প্রতি কী যে ভালোবাসা তা কেউ না দেখলে জানবে না। আগামী দিনে এসব প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের নিয়ে যেন তিনি বেঁচে থাকতে পারেন এই দোয়া। 

রিকতা আখতার বানু বলেন, আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেয়েকে জেনারেল স্কুলে দিয়েছি তারা বাহির করে দিয়েছে। কয়েকটি স্কুলে তাকে নিয়ে গেলেও ভর্তি করতে পারিনি। পরে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে আমি একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করবো। তখন থেকে এই স্কুলটা চালিয়ে যাচ্ছি। স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয়েছে। এই স্কুল থেকে অনেকে লেখাপড়া করে বিএ পড়ছে, কেউ ব্যবসা, কেউ সংসার করছে। আমিও আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। তার ঘরেও একটি সন্তান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমি নার্স পাঠদান শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা,মেধা বিকাশে কাজ করছি আমরা। এ ছাড়াও ছবি আঁকাসহ তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ক্লাস নেওয়া হয় এখানে। এখানে বাচ্চারা এসে খেলাধুলা ও হাসিঠাট্টা করতে পারে মন খুলে। এমন বিভিন্ন কাজ দেখে হয়তো বিবিসির নজরে আসে। আমাকে ১০০ জন প্রভাবশালী নারীর তালিকায় বাংলাদেশ থেকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সেই নারীটাই আমি রিকতা আখতার বানু। 

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, আমি এই উপজেলায় কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। এমন খবরে সত্যিই আমরা আনন্দিত। শুরু থেকেই রিকতা আখতার বানু প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের পাশে ছিল জেলা প্রশাসন। তার এই সফলতায় আগামীতে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।  

২০০৯ সালে জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা এলাকায় রিকতা আখতার বানু প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ৬৩ জন শিক্ষার্থী দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৪ জন। ২০২০ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ২১ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত