কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খিচুড়ি ভোজ ও ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করতে যাচ্ছেন কয়েকজন সমন্বয়ক। তবে অর্থের উৎস ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে সমন্বয়কদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে এমন আয়োজন তাদের ভুল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘খিচুড়ি ভোজ’র প্রধান আয়োজক। এদিকে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে প্রক্টরিয়াল বডি।
আজ (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র এর পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল হান্নান জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে আমি শুরু থেকেই ছিলাম। কিন্তু কখনো কোনও পদের জন্য আগ্রহী ছিলাম না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আজকে একটা প্রোগ্রাম হওয়ার কথা। খিচুড়ি ভোজ এটা আহতদের সঙ্গে মস্করা করা। যেখানে আহতরা এখনও বেডের মধ্যে কাতরাচ্ছেন, সুচিকিৎসা করা যাচ্ছে না। সেখানে এগুলো হচ্ছে আহতদের সঙ্গে মস্করা করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপে মাহমুদ আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সমন্বয়কদের একজন দাবি করেছেন ওনারা বাইরে ঘুরাঘুরি করে টাকা তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুঁড়ি ভোজের আয়োজন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি কাউকে বলেছে বাইরে থেকে টাকা তুলে এনে আমাদের ফ্রিতে খাওয়ান? কি আজব চিন্তা-ভাবনা!
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও খিচুড়ি ভোজের জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার বাজেট করেছেন সমন্বয়ক জান্নাতুল। এতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওর্য়াডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া সমন্বয়কদের দেড় লাখ টাকা দেন। বাকি অর্থ সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমন্বয়করা।
এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এম এইচ আবিরকে ফোন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেননি।
অর্থ প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।
তবে সমন্বয়ক জান্নাতুল ফেরদৌস ইভা জানান, আয়োজনের জন্য আমি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাজেট করেছিলাম। পরে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম আমাদের কাছে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছেন কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়ার মাধ্যমে। সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম কোথা থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি জানেন না বলে জানান।
তিনি আরও জানান, এটা মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে না। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে। হয়তো আমরাও যুক্ত আছি এবং ভুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হয়ে গিয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম নিজেদের মধ্যে বন্ডিংটা করতে, যাতে যেকোনো মুহূর্তে একজনকে ডাকলে সবাই আসতে পারে। এখানে প্রশ্ন আসে প্রোগ্রামের নাম কি হবে? তখন তরিকুল ভাই বলছেন, যেহেতু ভারতের বিষয়টা সামনে আসছে তো এটা দিতে পারো যে, ‘ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও খিচুড়ি ভোজ’।
অর্থের সংস্থান নিয়ে জানতে সমন্বয়ক তরিকুল ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করেননি।
ভারত সরকার আমাদের শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না
দুই দম্পতির পরকীয়া: একে অপরের স্ত্রীকে নিয়ে হোটেলে এসে ধরা