মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারে প্রয়োজন সময়মতো চিকিৎসা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৪১ এএম

মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, যা তাদের জীবনের গুণগতমানকে নষ্ট করে দেয়।

লক্ষণ

মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার অনেক ধরনের হতে পারে। যেমন :

অ্যাটাক্সিয়া : শরীরের ভারসাম্য এবং সমন্বয়ের অভাব, যা হাঁটা বা দাঁড়ানোর সময় সমস্যা সৃষ্টি করে।

রাইটারস ক্র্যাম্প : লেখার সময় হাতের পেশিতে টান বা ব্যথা, যা পেশাগত জীবনে জটিলতা তৈরি করে।

ওরোম্যান্ডিবুলার ডিসটোনিয়া : মুখ ও চোয়ালের অস্বাভাবিক সংকোচন, যা খাওয়া-দাওয়া বা কথা বলার সমস্যা সৃষ্টি করে।

সাইকোজেনিক মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার : মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে শরীরের অস্বাভাবিক নড়াচড়া।

গেট ডিসঅর্ডার : হাঁটার ধরনে অস্বাভাবিকতা, যা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

ডিসকাইনেশিয়া : অনিয়ন্ত্রিত এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া।

ড্রাগ-প্ররোচিত মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার : কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে শরীরের নড়াচড়ায় অস্বাভাবিকতা।

কোরিয়া এবং মাইকোলোনাস : শরীরের বিভিন্ন অংশে হঠাৎ অস্বাভাবিক এবং দ্রুতগতির নড়াচড়া।

ঝাঁকুনি নড়াচড়া : আকস্মিক ও অনিয়মিত নড়াচড়া, যা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে

শরীরের যেকোনো অঙ্গের অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা নিয়ন্ত্রণহীনতা থাকলে। দীর্ঘদিন ধরে হাতে বা পায়ে কম্পন, যা স্বাভাবিক কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করে। হাঁটার সময় হঠাৎ পড়ে যাওয়ার প্রবণতা। মুখম-ল বা চোয়ালের অস্বাভাবিক সংকোচন। নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের পর শরীরের অস্বাভাবিক নড়াচড়া।

চিকিৎসা

ওষুধ প্রয়োগ : পারকিনসন্স ডিজিজ বা ডিসটোনিয়ার জন্য বিশেষ ওষুধ ব্যবহৃত হয়।

বোটুলিনাম টক্সিন থেরাপি (Botox Therapy) : ডিসটোনিয়া বা স্প্যাজমের চিকিৎসায় কার্যকর।

ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন (Deep Brain Stimulation) : সার্জারি পদ্ধতির মাধ্যমে মস্তিষ্কে ইলেকট্রিক্যাল ইমপালস প্রেরণ করে অস্বাভাবিক নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ফিজিক্যাল থেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন : শরীরের পেশির শক্তি ও সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক। সাইকোজেনিক মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে মানসিক পরামর্শ ও থেরাপি জরুরি।

রোগ নির্ণয়

রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করা। ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি পরীক্ষা। জেনেটিক টেস্ট। ড্রাগ টক্সিসিটি টেস্ট।

কেন করবেন পরীক্ষা

রোগটি প্রাথমিক বা সেকেন্ডারি (অন্য রোগের প্রভাব) কোনো কারণ আছে কি না।

যেমন স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার বা পারকিনসন্স থেকে আলাদা করা। কারণ জানা থাকলে সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

সতর্কতা

প্রাথমিক অবস্থায় কম্পন বা অস্বাভাবিক নড়াচড়াকে অনেকেই  বয়সের প্রভাব বলে মনে করেন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সচেতনতা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত