জামালপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার ইসলাম রাফি ‘রাশিয়ায়’ রয়েছে এমনি একটা ছবি ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয়েছে। মূহুর্তেই ছবিটি ফেইসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ছবি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী ও মামলার আসামি দেশের বাইরে যাওয়া নিয়ে আলোচনা এখন জেলা জুড়ে। তার বিদেশ যাওয়া নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে আঙ্গুল তুলছে সচেতন মহল।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে তার নিজস্ব ফেইসবুক আইডিতে দেওয়া ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ও ফেইসবুক ছড়িয়ে পড়ে। গত ২ ডিসেম্বরের ফ্লাইটে তিনি রাশিয়া গেছে বলে জানা গেছে। গত ৩ আগস্ট শহরের নতুন হাইস্কুল মোড়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করা হয়।
ছবিতে দেখা যায়, রাফির পরনে খাকি রং-এর জ্যাকেট ও প্যান্ট। পায়ে সাদা রঙের জুতা, গলায় মাফলার। মুখমণ্ডলজুড়ে দাড়ি। তার ডান হাতের কাছে একটি কালো রঙের ল্যাম্প পোস্ট ও পিছনে অনেক গাছ। সেই ছবিতে লোকেশন চিহ্ন দিয়ে ‘ভোরোনেজ, রাশিয়া’ লেখা রয়েছে।
ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার ইসলাম রাফি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানুর বিশ্বস্ত অনুসারী এবং পৌরসভার অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত ছিলেন।
জানা যায়, গত ৩ আগস্ট দুপুর তিনটার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে র্যালি নিয়ে শহরের হাইস্কুল মোড়ের দিকে আসে। শিক্ষার্থীদের র্যালিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার ইসলাম রাফিসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দেয়। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা শাহরিয়ার ইসলাম রাফিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করতে দেখা যায়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের র্যালিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় গত ১৭ আগস্ট পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্রধারী শাহরিয়ার ইসলাম রাফি, নাফিজুর রহমান তুষার ও ফারহান আহাম্মেদসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
জামালপুর শহরে অবস্থানরত শাহরিয়ার ইসলাম রাফির বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই স্টুডেন্ট ভিসা হয়ে ছিল রাফির। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে হামলা, মামলা ও সরকার পতনের কারণে যেতে বিলম্ব হয় তার। তবে সম্প্রতি একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রাশিয়া যান রাফি। সেখানে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে ভিডিও কলে কথাও বলেছে রাফি।
শাহরিয়ার ইসলাম রাফির বাবা মো.আসলাম জানান, ডিসেম্বর মাসের শুরুতে রাফি রাশিয়া চলে গেছে। অনেক আগেই চলে যাওয়ার কথা ছিল। মামলার কারণে যেতে দেরি হলো। স্টুডেন্ট ভিসা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হয়নি। পরে জব ভিসায় গিয়েছে। তবে বিমানবন্দরে কোনো ঝামেলা হয়নি। নিরাপদেই গিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস বলেন, ‘ছাত্রদের ওপর পিস্তল নিয়ে হামলাকারী কীভাবে দেশের বাইরে চলে যায়? এটা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা। এটা সরকারের ব্যর্থতা।’
এ বিষয়ে নাগরিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘অনেক নেতা-কর্মী, দূর্বৃত্ত এবং প্রশাসন সেই দূর্বৃত্তয়ান প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত। প্রশাসনের লোক এবং দাললদের মাধ্যমে অনেকেই প্রথমে ভারতে তারপর ওখান থেকে বিভিন্ন দেশে গেছে। গত ৫ তারিখের পরে যদি সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারির মধ্যে নিয়ে আসতো, তাহলে কোনো অপরাধীই দেশ থেকে পালাতে পারতো না। আমি তাদের অপরাধীই বলবো যারা দীর্ঘ সময় দুর্নীতি করেছে বা সাথে যুক্ত ছিল। দেশে বা দেশের বাইরে যে সকল অপরাধী রয়েছে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জামালপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, চোখে চোখ রেখে: হাসনাত
ন্যায়বিচার যাতে বিলম্বিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধান বিচারপতি
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ 