পোলিশ তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যা, বাংলাদেশি যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:২৯ পিএম

গ্রিসে পোল্যান্ডের এক তরুণীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সালাহউদ্দিন (৩৩) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) দেশটির একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

গত বছরের জুন মাসে গ্রিসের কস দ্বীপে অপহরণের পর ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন পোলিশ তরুণী আনাস্তাসিয়া রুবিনস্কা (২৭)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক সালাহউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন সালাহউদ্দিন।

পোল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম টিভিএন-২৪ গ্রিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। মামলার কৌঁসুলি সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনাস্তাসিয়াকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং হত্যার অভিযোগ আনেন। পরে শুনানি ও অন্যান্য যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল শুক্রবার আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

কস দ্বীপের একটি হোটেলে কাজ করতেন আনাস্তাসিয়া। ২০২৩ সালের ১২ জুন কাজ শেষ হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন তার ছেলে বন্ধু যিনি একই হোটেলে কাজ করতেন বিষয়টি পুলিশকে জানান। ছয়দিন পর ১৮ জুন আনাস্তাসিয়ার লাশ পাওয়া খুঁজে পাওয়া যায়। সে সময় লাশ অর্ধনগ্ন ছিল। যেখানে লাশ পাওয়া যায় সেটা সালাহউদ্দিনের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। লাশ পাওয়ার একদিন আগে এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় সালাহউদ্দিনের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে থেকে। তাতে দেখা যায়, আনাস্তাসিয়া দক্ষিণ এশীয় কিছু কর্মীর সঙ্গে কেনাকাটা ও আড্ডা দিচ্ছেন, যাদের মধ্যে সালাহউদ্দিনও ছিলেন। পরে আনাস্তাসিয়াকে সালাহউদ্দিনের স্কুটারে চড়ে তার বাসায় যেতে দেখা যায়। এই ভিডিওতেই আনাস্তাসিয়াকে শেষবার জীবিত অবস্থায় দেখা যায়।

এই মামলার তদন্তকারী ডেভিড বুরজাকি জানান, সালাহউদ্দিন ইতালি যাওয়ার জন্য একটি বিমানের টিকিট কিনেছিলেন এবং দ্বীপ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এছাড়া সালাহউদ্দিন গুগলে সার্চ করেছিলেন, ‘মৃতদেহ কীভাবে লুকানো যায়, আঙুলের ছাপ কীভাবে মোছা যায় এবং তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার উপায়।’

স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য অনুসারে, একটি স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিহত আনাস্তাসিয়ার লাশ খুঁজে পান। তদন্তে জানা যায়, আনাস্তাসিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং হত্যার আগে যৌন নির্যাতন চালানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত