মাসখানেক আগে, ক্যারিবিয়ান সফরে এসেছিল ইংল্যান্ড দল। ওয়ানডে ক্রিকেটকে বদলে দেওয়া ইংল্যান্ড, টি-টোয়েন্টিতে আগাগোড়া মারকুটে ব্যাটিংয়ের ইংল্যান্ড। সেই তারা ওয়ানডের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যায় ২-১ ব্যবধানে। তাই বাংলাদেশের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজ জেতাটা যে সহজ হবে না সেটা জ্যোতিষী না হলেও আন্দাজ করা যায়। কারণ লাল বল আর সাদা বলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ একদমই আলাদা। টেস্টের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই নেই ওয়ানডে দলে, বদল এসেছে কোচের দায়িত্বেও। অ্যান্ড্রু কুলি নন, এবারে কোচ ড্যারেন সামি। বাংলাদেশ দলটাকে যার হাতের তালুর মতোই চেনা।
হাওয়াটা প্রতিকূলে হলেও বাংলাদেশ দল আত্মবিশ্বাসী। কারণ সংস্করণটা ওয়ানডে। যে সংস্করণে খেলতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা স্বস্তিবোধ করেন। আরেকটা কারণ জয়ের সুবাতাস। জ্যামাইকায় টেস্ট ম্যাচে জিতেই সেন্ট কিটসে পা রেখেছেন অনেকে। তাদের মধ্যে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজসহ অনেকেই আছেন, যারা সব সংস্করণেই খেলছেন। ওয়ানডে দলে আরও যারা যোগ দিচ্ছেন- যেমন সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন ও রিশাদ হোসেন, তারা মাত্রই গ্লোবাল সুপার লিগের শিরোপা জিতেছেন গায়ানায়। ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানির আসর জিতে তাদের পকেটও গরম, গায়ানায় ১১ দিনের আসরে খেলে ক্যারিবিয়ানের জল হাওয়ার সঙ্গেও হয়েছেন ধাতস্থ। এমনকি এই আসরে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সে খেলা তানজিম হাসান সাকিবেরও ক্যারিবিয়ানের জল হাওয়ার সঙ্গে মিতালিটা হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই যাকে বলে একেবারে ‘ওয়েল কন্ডিশনড’। সৌম্য সরকার গ্লোবাল সুপার লিগের সেরা খেলোয়াড়, সবশেষ ৫ ম্যাচে দুইটা হাফসেঞ্চুরি। সেরা সময়ের সৌম্যকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকদিন পর, ইনিংসের সূচনায় তাকে দেখা যেতে পারে লিটন দাসের সঙ্গে। কারণ তানজিদ তামিম এর আফগান সিরিজ এবং পরে জাতীয় লিগের রান আশাব্যঞ্জক নয়। এক রাশ অভিজ্ঞতা নিয়ে যোগ দিয়েছেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ছেড়ে দেওয়া মাহমুদউল্লাহ। আফগান সিরিজের হতাশা কাটিয়ে ওঠার একটা সুযোগ তো তার জন্য বটেই, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে সম্ভবত এটাই মাহমুদউল্লাহর বাংলাদেশের হয়ে সবশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজও।
পেস বোলিং আক্রমণের টেস্ট খেলা সব চেনা চেহারাই। শরিফুল, তাসকিন, নাহিদ, হাসানদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তানজিম সাকিব। বাম হাতি স্পিনার তাইজুল নন, নাসুম। অধিনায়কের তুণে যোগ হয়েছে লেগস্পিনও, রিশাদ আহমেদ শেষদিকে বল মারতেও পারেন বলেই প্রমাণ মিলেছে।
সব মিলিয়ে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল, অধিনায়কের হাতে অনেক বিকল্প। তবে দুর্ভাবনার নামটা এখনো ব্যাটিং। তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্তরা না থাকায় ব্যাটিংটা ভোগাবে। আফিফ হোসেন ১ বছর পর দলে ফিরে কী করতে পারবেন সেটাই দেখার। ম্যাচটা শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ৯-৩০ মিনিটে। তাই উইকেটের আর্দ্রতা ম্যাচে পালন করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, সেক্ষেত্রে টসও অনেকটাই গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, এভিন লুইসরা অবশ্য যে কোনো পরিস্থিতিতেই বল সীমানা ছাড়া করতে পারেন। বাংলাদেশের ভয়টা তাদের নিয়েই।
