প্রশাসন দলীয়করণে অন্যতম কর্মকর্তা কবীর বিন আনোয়ার

  • প্রশাসনের কর্মকর্তা হয়েও তিনি দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করতেন
  • তার সময়ে সিরাজগঞ্জের চারজন সচিব ছিলেন
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:২১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান পেশায় ছিলেন অভিনেতা। অধিকাংশ গবেষণায় তিনি ১০ সেরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের একজন। তার সাফল্যের কারণ ছিল একদল চৌকস ও পেশাদার আমলা। যারা সঠিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রেসিডেন্টকে সফল করার জন্য নিবেদিত ছিলেন। রিগ্যানের প্রশাসনবিষয়ক কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসনবিষয়ক বিস্তর অভিজ্ঞতা থাকার পরও তিনি শেষপর্যায়ে এসে বিতর্কিত আমলাদের ওপর নির্ভর করেছিলেন। তারা যতটা না সরকারকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। স্বার্থের জন্য একচোখা নীতি অনুসরণ করেছেন। কখনো কখনো তারা শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার বলে দাবি করতেন। এ ধরনের আমলাদের কারণে প্রশাসনে বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

যাদের হাতে প্রশাসন সবচেয়ে দলীয়করণ হয়েছে, তাদের মধ্যে কবির বিন আনোয়ার ছিলেন দাপুটে কর্মকর্তা। নানা বিতর্কের মধ্যে তিনি ১৯ দিনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় বরকল উপজেলার ইউএনওর দায়িত্ব পালন করেন কবীর বিন আনোয়ার। ২০০৩-০৬ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। আর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময়ে সচিব, সিনিয়র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

বছর কয়েক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। ছবিতে দেখা গিয়েছিল, কয়েকটি অস্ত্রসহ বিশেষ ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। সরকারি কর্মকর্তার এ আচরণ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু আচরণবিধির সীমা কি আর দাপুটে এ সচিবকে থামাতে পারে? বরং কিছুদিন পর বিরাট গাড়িবহর নিয়ে রাজনৈতিক নেতার মতো শোডাউন করে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন। এমন সব বিতর্ক আর সমালোচনার মধ্যেই ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি কবীর বিন আনোয়ারকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন শেখ হাসিনা।

প্রশাসনে দলীয়করণে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন কবীর বিন আনোয়ার। তিনি সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছেন। তার সময়ে সিরাজগঞ্জের চারজন সচিব ছিলেন। সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে একসঙ্গে চারজনের সচিব হওয়ার ঘটনা ওটাই ছিল প্রথম।

ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের ডাকসাইটে নেতা। ছিলেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৮২ থেকে সামরিক শাসনবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫-৮৮ পর্যন্ত ছাত্রলীগ ফজলুল হক হল শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে সিভিল সার্ভিসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। চাকরি জীবনে এসে নিজের দলীয় অবস্থান ভুলে যাননি।

প্রশাসনের কর্মকর্তা হয়েও তিনি দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করতেন। এর পুরস্কারও পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র সচিব ছিলেন। মেটানো হয়েছে তার মন্ত্রিপরিষদ সচিব হওয়ার স্বপ্নও। মন্ত্রিপরিষদ সচিব পথ থেকে অবসর নেওয়ার পর যুক্ত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারের কাজে। নির্বাচন শেষে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর ইউএনর পক্ষ নেন কবীর। বরিশাল সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত