বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১১টি শাখা। এই শাখাগুলোর কার্যক্রম ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করে সেগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিটি করপোরেশনের অর্গানোগ্রামে না থাকলেও প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে এসব বিভাগ চালু করেন সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এ এইচ এম লিটন। সিটি করপোরেশনের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে এই ১১টি বিভাগের জন্য প্রায় ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল।
রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সিটি করপোরেশনের অর্গানোগ্রামের বাইরে ১১টি বিভাগ চালু করেন এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
এই বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম বিভাগ, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ, ধর্মীয়বিষয় বিভাগ, শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, সিটি মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্কাইভস বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ এবং নারী ও শিশুকল্যাণ বিভাগ।
১১টি বিভাগের ১৯৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়াই রাজশাহী সিটি করপোরেশনে এই শাখাগুলো চালু করা হয়েছিল। সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন তার পছন্দের প্রায় ২০০ দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়োগ দেন এসব শাখায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন আত্মগোপনে চলে যান। এসব শাখার অনেক কর্মচারীও গা ঢাকা দেন। রাসিকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর এখানকার অপ্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী, অপ্রয়োজনীয় বিভাগের তথ্য যাচাই শুরু হয়। এতেই উঠে আসে যে, অর্গানোগ্রামের বাইরে থাকা এসব শাখার প্রয়োজন নেই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে এগুলো বন্ধে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন বলছে, এ শাখাগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই।
সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে অনুমোদিত শাখার বাইরে ২০১৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন করে এসব শাখা চালু করেন মেয়র লিটন। এসব শাখার কোনো অনুমোদন না থাকলেও বাজেট অনুমোদন দিয়ে কাজ হতো। এসব কাজ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হতো সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত বার্ষিক বাজেট থেকে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, শাখাগুলো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
সুশানের জন্য নাগরিক-সুজনের রাজশাহী জেলা শাখার সমন্বয়ক মিজানুর রহমান বলেন, এ বিভাগগুলো রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তাদের বেতন জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকেই দেওয়া হতো।
এই শাখার ধারার মতো কোনো কিছু কখনোই কোনো সরকারি অফিসে কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে চালু করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে এ রকম কোনো কিছু যাতে সিটি করপোরেশন হাতে না নেয়, এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ বি এম শরীফ উদ্দিন বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা মনে করছি, সিটি কপোরেশনের আয়তন বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত করপোরেশনের অনুমোদনের বাইরে কোনো শাখা আর ধারণ করতে চাচ্ছি না। পর্যায়ক্রমে এই শাখাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। যাতে করে আমাদের সাশ্রয় হবে। শাখা থাকবে না। তবে এসব শাখায় কেউ দক্ষ কর্মী থাকলে তাকে অন্য বিভাগে দেওয়া হবে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কর্মচারী থাকবে না। মূলত সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে অর্থ বা সিটি করপোরেশনের কাজ পরিচালনা করাটাই সমীচীন।
