‘রিক্রুটমেন্ট পলিসির ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারে না’

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৪৯ পিএম

রিক্রুটমেন্ট পলিসির ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্ত্বরে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এমন ছাত্ররাজনীতি চাই না— যে ছাত্ররাজনীতিতে মাদার পার্টি তার ছাত্রসংগঠনের প্রেসক্রিপশন লিখে দেবে। এই রিক্রুটমেন্ট পলিসি কখনোই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারবে না। সেই রিক্রুটমেন্ট পলিসি থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হওয়া উচিত।

‘গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী ছাত্ররাজনীতির প্রশ্ন; নয়া অনুসন্ধানের অভিপ্রায়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় শিক্ষাঙ্গনে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রশ্নে একমত হয়েছেন উপস্থিত ছাত্রনেতারা।

ডায়ালগ ফর ডেমোক্রেসির আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ আরমানের সভাপতিত্বে ও মোস্তফা মুশফিকের সঞ্চলনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মেঘমল্লার বসু ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি রাফিয়া রেহনুমা হৃদি। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম এ এস ওয়াজেদ, মহিউদ্দীন মুজাহিদ মাহি, আদনান মোস্তারি। 

সভায় ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আখতার হোসেন বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের যে ভয় রয়েছে সে বিষয়ে আমাদের ভেবে দেখা উচিত। বিগত সময়ে ছাত্রলীগ যে র‍্যাগিং কালচার চালু রেখেছিল তার ট্রমা এখনো কাটেনি। গত দেড় দশক ফোন চেক করে করে মারধরের রাজনীতিতে আমরা বেড়ে উঠেছি।

তিনি নিজেই এমন ছাত্ররাজনীতির ভুক্তভোগী উল্লেখ করে বলেন, দমননীতি, গেস্টরুম কালচার, মাদার সংগঠনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ার যে প্রবণতা সে জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সংসদের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূলতত্ত্ব হলো শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা। দুঃখজনক হলেও সত্য বিগত সময়ে দমননীতির কারণে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নেগেটিভ ধারণা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতি থাকা না থাকার প্রশ্নটাই লজ্জার। শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির সুষ্ঠু ধারা থাকলে আজ এ আলোচনা সভা করা লাগত না। সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির জন্য সর্বপ্রথম ট্যাগিং কালচার বন্ধ করতে হবে। আমরা দেখেছি, বিশ্বজিৎকে হিন্দু শাখার কর্মী বলে কীভাবে নৃশংসভাবে মারা হয়েছে। আবরারকে কীভাবে ট্যাগিং দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ভবিষতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে। বক্তব্যের পরিশেষে ছাত্ররাজনেতিক সংগঠনগুলোর উদারতা, পারস্পারিক সহাবস্থান নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও বিতার্কিক রাফিয়া রেহনুমা হৃদি বলেন, আমরা পূর্বের ছাত্রলীগের রাজনীতি দেখেছি এবং এর ভয়াবহতার শিকার আমরা নিজেও। শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতির বদলে সেটা শিক্ষার্থীদের দমনপীড়নের প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছিল। আমরা চাই গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে জবাবদিহিতার জায়গা নিশ্চিত করে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির চর্চা হোক। সেই সঙ্গে হল এরিয়া ও একাডেমিক এরিয়ায় ছাত্ররাজনীতির বন্ধ হোক। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, ছাত্ররাজনীতি বলতে এর সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির একটা প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে। যেখানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ না করে বরং এটিকে শিক্ষার্থীবান্ধব করতে হবে। সেই জন্য সবার আগে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টায় আসতে হবে। ক্যাম্পাসে সিআর ইলেকশনের গঠনগত কাঠামো নির্ধারন ও সিআর'স কাউন্সিল গঠন করার মাধ্যমে ডাকসু করার আগে যদি আমরা এটা করতে পারি তাহলে একটা ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। এবং এই প্লাটফর্মটাকে এমনভাবে সাজানো উচিত যাতে কেউ প্রশ্ন না তুলতে পারে যে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কী থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত