মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ধুয়ে-মুছে রংতুলির আচড়ে সাজানো হচ্ছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। লেক সংস্কার, সীমানা প্রাচীর ও বিভিন্ন স্থাপনা মেরামত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকসহ বিশিষ্টজনরা। এরপরই সৌধ প্রাঙ্গণে ঢল নামবে সাধারণের। তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে শহীদ বেদি।
সরেজমিনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘুরে দেখা যায়, স্মৃতিসৌধের ভেতরে কেউ করছে রঙের কাজ, কেউ ইটের কাজ। আবার কেউ ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউ পানি দিয়ে পুরো সৌধের ভেতর ধোয়া-মোছার কাজ করছেন, কেউবা ইলেকট্রিকের কাজ অনেকেই করছেন ফুলসহ গাছের পরিচর্যা। হাতে লেখার কাজও করছেন একজন। সিসি ক্যামেরার কাজ করছেন অনেকেই।
এরই মধ্যে দিবসটি উপলক্ষে নানা রঙের বাহারি ফুলেল চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে স্মৃতিসৌধের সবুজ চত্বর। চত্বরের সিঁড়ি ও নানা স্থাপনায় পড়েছে রংতুলির আঁচড়।
আমিনুল নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ১৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এক মাস আগে থেকেই এখানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। আমি ১০ দিন ধরে এখানে কাজ করছি। দিনে ৬০০ টাকা হাজিরায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করি আমি।
ফুল গাছের পরিচর্যাকারী আব্দুল মতিন জানান, মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে স্মৃতিসৌধের বিভিন্ন স্থানে শোভা বাড়ানোর জন্য ফুলের গাছসহ নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। বিজয় দিবসের দিনে এখানে লাখ লাখ মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। এটি ভাবতেই এক অনুভূতি অনুভব করেন তিনি। ৪২ বছর ধরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার হাতে লেখার সম্পূর্ণ কাজ করেন জি এম আনোয়ারুল ইসলাম। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি নিয়মিত স্মৃতিসৌধে হাতে লেখার সব কাজ করে থাকেন। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চসহ সব দিবসসে স্মৃতিসৌধে তিনি নিয়মিত হাতে লেখার কাজ করে থাকেন। এবার ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকেই হাতের লেখার কাজ শুরু করেছেন তিনি। পরিবারের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও মনের ভালো লাগা থেকে তিনি এখানে লেখালেখির কাজ করেন বলে জানান।
অন্যদিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রতিবারের মতো এবারও বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। এ ছাড়া সাদা পোশাকে কাজ করবে গোয়েন্দা সংস্থার লোক।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ম-লী, বিদেশি কূটনীতিকসহ লাখ লাখ জনতা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সেই লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সকে ধুয়ে-মুছে পরিপাটি করা, ফুল দিয়ে সাজানো, রংতুলির কাজ, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। দেড় মাস ধরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।
