অবৈধ সংযোগে দুর্ভোগে বৈধরা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক অবৈধ সংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ গ্রাহকরা। এর মধ্যে ছয়টি অবৈধ সেচ পাম্পও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তারা অভিযোগ করেন, সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সেচ পাম্পের সংযোগ পাচ্ছেন না তারা। অথচ একটি চক্র পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়ে সংযোগ নিচ্ছেন। এর ফলে বিদ্যুৎ না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

গত রবিবার সকালে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নিয়ে ঘরের কাজ, অটোরিকশা চার্জ ও সেচ পাম্প চালাচ্ছেন কিছু লোক। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এসব অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা হলে এলাকার অনেক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

এ বিষয়ে খামার উল্লাপাড়া গ্রামের বৈধ লাইসেন্সধারী কৃষকরা বেলকুচি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের পর বেলকুচি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম ছানোয়ার হোসেন অবৈধ লাইনের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এরপর এ ব্যাপারে তদন্তে মাঠে নামেন বেলকুচি উপজেলার তামাই সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন। তদন্তে ছয়টি বিদ্যুতের লাইনে অবৈধ লাইসেন্সে সংযোগ পাওয়ার সত্যতা পান তিনি। এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বেলকুচি উপজেলার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম ও মাঠ পরিদর্শক আহসান হাবিব। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই সব অবৈধ লাইনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেন। পল্লী বিদ্যুতের অসাধু এই কর্মকর্তাদের কারণে কোনো সমাধান পাচ্ছে না সাধারণ গ্রাহকেরা।

২০২৩ সালের অবৈধ সংযোগকারীরা হলেন, বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের খামার গ্রামের সাঈদ আকন্দের ছেলে চয়ন মিয়া, খামার উল্লাপাড়া গ্রামের মৃত আজাহার আকন্দের ছেলে আব্দুল কাদের আকন্দ, একই গ্রামের মৃত জোনাব আলীর ছেলে ছবেদ আলী, নুর বক্সের ছেলে আশরাফুল হোসেন, ইসমাইল সরদারের ছেলে শহিদুল সরদার জয়নাল ও সড়াতৈল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আয়নাল হোসেন।

বেলকুচি উপজেলার খামার উল্লাপাড়া গ্রামের আলতাব শেখ বলেন, ‘ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ছয়টি সেচপাম্প চালানোর কোনো অনুমতি নেই। তারা সেচপাম্পগুলো চালাচ্ছেন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজেও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বিষয় যেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কারও চোখেই পড়ছে না।’

ভুক্তভোগী ময়নাল উদ্দিন বলেন, ‘বেলকুচি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধ লাইসেন্সের মাধ্যমে লাইনগুলো চলছে। এসব অবৈধ লাইন দিয়ে রীতিমতো চলছে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম। অটোরিকশা চার্জসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে এই অবৈধ লাইন।’

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁশ ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে বৈদ্যুতিক তার টানিয়ে সেচপাম্প বসানো হয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই গ্রামে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে কয়েকটি সেচপাম্প। কিন্তু কৃষকের বৈধ সেচপাম্প থাকা সত্ত্বেও অবৈধ সেচপাম্পের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ সেচ পাম্পের মালিকরা। তারপরেও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অবৈধ সংযোগের বিষয়ে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তামাই সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার ও তদন্ত কমিটির সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘৭ মাস আগে অবৈধ সংযোগের বিষয়ে মাঠে গিয়ে তদন্ত করে ছয়টি সেচপাম্পের সংযোগ অবৈধ পাওয়া যায়। পরে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অফিসে তদন্তের রিপোর্টগুলো জমা দেওয়া হয়েছে। আমি আর এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

বেলকুচি জোনাল অফিসের ডিজিএম ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগের বিষয়ে আমার সঙ্গে কারও কোনো কথা হয়নি। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ এ কথা বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবু আশরাফ মো. ছালেহ্ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত