থানা থেকে হাসপাতালে আল্লু অর্জুন

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:১৩ পিএম

ভারতের দক্ষিণী অভিনেতা আল্লু অর্জুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবারই তাঁকে আটক করে হায়দরাবাদের চিক্করপল্লী থানায় নেওয়া হয়েছে।

গত ৪ ডিসেম্বর হায়দেরাবাদে ‘পুষ্পা টু’ প্রিমিয়ারে পদপিষ্ট হয়ে এক জনের মৃত্যু হয়, আহত হন বেশ কয়েক জন। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আল্লু অর্জুন। এই ঘটনাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে এক লাইভ প্রতিবেদনে জানা যায়, চিক্করপল্লী থানায় বর্তমানে অবস্থান করছেন আল্লু অর্জুন; সেখানে বিবৃতি রেকর্ড করা হচ্ছে। থানায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আল্লু অর্জুনকে মেডিকেল চেকআপের জন্য ওসমানিয়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। থানায় উপস্থিত আছেন অভিনেতার বাবা আল্লু অরবিন্দ এবং ভাই আল্লু সিরিশ। এই কেসে আল্লু অর্জুনের দেহরক্ষীকেও গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। 

জানা যায়, পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই সোমবার পর্যন্ত তার গ্রেপ্তার স্থগিত রাখতে একটি আবেদন করেছেন আল্লু অর্জুন; আদালতে সেটার শুনানি হবে দুপুর আড়াইটা।

কী ঘটেছিল পুষ্পা ২ ছবিটির প্রিমিয়ারে?
৪ ডিসেম্বর হায়দরাবাদের সন্ধ্যা সিনেমা হলে ছিল পুষ্পা ২ ছবিটি প্রিমিয়ার। এমনি তার জন্য উপচে পড়েছিল ভিড়। তার মধ্যে হঠাৎ সেখানে আল্লু অর্জুন আসায় পড়ে যায় হুড়োহুড়ি। নিমেষেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়। সেই সময় সিনেমা হলে ছেলেকে নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন সেই নারী। তখনই পদপিষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। তাঁর ছেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে। এরপর খোদ আল্লু অর্জুন তো বটেই, সন্ধ্যা সিনেমা হলের বিরুদ্ধেও দায়ের করা হয়েছে মামলা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আল্লু অর্জুন আগে থেকে খবর না দিয়ে হঠাৎ সেখানে চলে আসেন। পুলিশও সেভাবে প্রস্তুত ছিল না, তাই সেই সময় হুড়োহুড়ি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় কর্মরত পুলিশের পক্ষে। মৃতার পরিবারের তরফে গোটা ঘটনার জন্য আল্লু অর্জুনকে দায়ী করা হয়েছে। এমনকি তাঁরা আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। এরপর তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

নিহত নারীর স্বামী যা বলছেন
মৃতার স্বামী ভাস্কর এই ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'আমাদের ছেলে শ্রী তেজা আল্লু অর্জুনের ভক্ত। ওর জন্যই আমরা ছবিটা দেখতে এসেছিলাম। সবাই আমাদের ছেলেকে পুষ্পা বলে ডাকে। কিন্তু আমি আমার স্ত্রীর মৃত্যুটা মেনে নিতে পারছি না।' ভাস্করের ছেলেকে ঘটনাস্থলেই CPR দেওয়া হয়। তাতে তার জ্ঞান ফেরে। এরপর মা এবং ছেলে দুজনকেই দুর্গাবাই দেশমুখ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই এই ঘটনার পরই মৃত্যু হয় রেবতীর। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় কিশোরকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত