বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৩১ এএম

তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসে ২০০৯ সালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুনরায় তদন্ত করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়েছেন কারা নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সাবেক বিডিআর সদস্য ফয়জুল আলম, জেলখানায় নিহত পরিবারের সন্তান অ্যাডভোকোট আব্দুল আজিজ, বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। কারা নির্যাতিত বিডিআর সদস্যদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, বিডিআর জওয়ান ও সাধারণ নাগরিকসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মামুন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের নির্ভরযোগ্য পুনরায় তদন্ত হওয়া দরকার। দ্রুত দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা চাই  এই ঘটনার সঠিক, নির্ভরযোগ্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে সঠিক তদন্ত করা হোক। এতে  মানুষ জানতে পারে প্রকৃতপক্ষে সেদিন কী ঘটেছিল।

আবদুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মনগড়া কাউকে ফাঁসি, কাউকে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রেখেছে। সাজার মেয়াদ শেষ করে যাতে বিডিআর সদস্যরা কোনো প্রতিবাদ ও সত্যটা উদঘাটন করতে না পারে সেই জন্য বিস্ফোরক মামলার নামে আরেকটি মামলা দিয়ে বিগত ১৬ বছর যাবৎ কারাগারে আটক করে রেখেছে। 

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছেÑ শেখ হাসিনার প্রহসনমূলক সব মামলা ও প্রহসনমূলক সব রায় বাতিল করতে হবে; গত ১৬ বছর যাবৎ কারাগারে থাকা সব বিডিআর সদস্যদের নিঃশর্ত কারামুক্তির দাবি; হাইকোর্টের রিট অনুযায়ী দ্রুত পুনঃতদন্ত শুরু করতে হবে; বিডিআরদের রিমান্ডে মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি প্রদান; সব বিডিআর সদস্যদের, চাকরিতে পুনর্বহাল, সব সেনা শহীদ, বিডিআর শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত সব বিডিআর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন করতে হবে; বাংলাদেশ রাইফেলস নাম পুনঃস্থাপন ও ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত