তর্জন-গর্জন শেষে ভারতের সঙ্গে কেন আপস করল পাকিস্তান?

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৫৫ এএম

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে ভারত আর পাকিস্তানের মাঝে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতের প্রস্তাবিত হাইব্রিড মডেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। এতে ভারতের ম্যাচগুলো হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। অথচ কয়দিন আগেও পাকিস্তান ক্রিকেট কর্তারা অনেক তর্জন গর্জন করেছেন। কিন্তু দিনশেষে কেন তারা ভারতের সঙ্গে আপস করলেন?

রাজনৈতিক কারণে সেই ২০০৮ সালের পর আর পাকিস্তানে যায়নি ভারতের ক্রিকেট দল। গত বছরের এশিয়া কাপের আয়োজক পাকিস্তান হলেও ভারতের আপত্তিতে সেটা হাইব্রিড মডেলে আয়োজিত হয়। ভারত তাদের ম্যাচগুলো খেলে শ্রীলঙ্কার মাটিতে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঘিরেও হাইব্রিড মডেলের প্রস্তাব করে ভারত। অন্যদিকে অনেক অনুরোধ, আবেদন আর হুমকি-ধামকি শোনা যায় পাকিস্তান থেকে। বাংলাদেশে এসেছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।

শেষ পর্যন্ত ভারতের হাইব্রিড মডেলই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। তবে এবার তারা একেবারে বিনা যুদ্ধে ময়দান ছাড়েনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আয়োজক স্বত্ব থাকবে পিসিবিরই। আরব আমিরাতে হবে ভারতের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ, একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। আর এক সেমিফাইনালসহ মোট ১০ ম্যাচ আয়োজন করবে পাকিস্তান। অবশ্য ভারত নক-আউটে না উঠলে আরও দুটি ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজিত হতে পারে।

এদিকে ভারতীয় দল পাকিস্তানে যেতে রাজি না হওয়ায় পিসিবিও পাল্টা শর্ত দিয়েছে যে, তারা ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারতের মাটিতে কোনো টুর্নামেন্ট খেলবে না। ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সব ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কায়। এছাড়া আগামী বছরের সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে পাকিস্তানের ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ দাবি করেছে, হাইব্রিড মডেলে রাজি হওয়ায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের মাঝে পাকিস্তানে মেয়েদের একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগও দেওয়া হবে। কিছুদিন আগেও ভারতকে ছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের হুমকি দিয়েছিল পিসিবি। তবে এটি যে বাস্তবসম্মত নয়, তা প্রমাণ হয়ে গেল। আপাতত যা পাওয়া গেছে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে পাকিস্তানকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত