বাগাতিপাড়ায় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:০০ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘ ৫-৭ বছর ধরে উপজেলার ওই সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এদিকে পদগুলো শূন্য থাকায় ব্যহত হচ্ছে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। অপরদিকে, ২৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আর বাকি দুটি ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের নামো হাটদৌল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাঁকা ইউনিয়নের তকিনগর সরকারি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই উপজেলায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে একজন সহকারী শিক্ষককে ওই পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ওই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অফিসের বিভিন্ন কাজের জন্য তাদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হয় এবং বাকি শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। আবার প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যহত হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বাধার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। ফলে দীর্ঘ সময় উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ বিষয়ে দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘গত জুন মাসে দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করছেন। এর আগেও তিনি উপজেলার অন্য বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের সকল কাজকর্ম তাকে করতে হয়। বিদ্যালয়টিতে এখন মাত্র চারজন শিক্ষক রয়েছেন। ফলে কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে এবং তাকে অফিসের কাজে কোথাও যেতে হলে বা ব্যস্ত থাকলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘একজন সহকারী শিক্ষক যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকেন তখন অনেক সহকারী শিক্ষকরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে তাকে মেনে নেন না। ফলে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সাবরিনা আনাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় সারাদেশেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই সমস্যা কেটে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত