সাধারণ একজন বাস চালকের সঙ্গে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার হয়ে সমালোচিত হলেন ইকবাল হোসেন। তার আগে ২০১৮ সালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর খামারের গরু চুরির মামলায় জেলে গিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন নাসিকের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এ কাউন্সিলর।
জানা গেছে, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় আসিয়ান পরিবহনের বাস চালক নয়নকে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে ইকবাল হোসেন ও তার কর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক মিনহাজ আমানকে লাঞ্ছিত ও থাপ্পড় দেয় ইকবালের লোকজন। এ ঘটনায় একইদিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইকবাল হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পাড়ার পর থেকেই বেড়িয়ে আসছে তার অপকর্মের নানা কাহিনী। মুখ খুলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও।
একাধিক বিএনপি নেতারা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ২০১৬ সালে এনসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন। তখন তিনি যুবদল করতেন। তিনি কাউন্সিলর হলেও মূলত ছিলেন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার হাতের পুতুল। ইয়াছিন মিয়ার ছত্রছায়ায় তার নির্বাচিত এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতাসহ নানা অপকর্ম করেছেন বীরদর্পে। নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইকবাল হোসেন গোপনে নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের পক্ষে কাজ করেছেন। পুরস্কার হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনে ২০২২ সালে ফের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করায় ইকবাল প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের জন্য ভোট চেয়ে গনসংযোগ করেছেন। বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচন বর্জন করলেও আওয়ামী লীগের ছায়া পেতে তিনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার পর ২০২৩ সালের ৫ মে বিতর্কিত ইকবাল হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা জানান, ২০১৮ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর খামার থেকে ৪টি গরু চুরি করেন ইকবাল ও তার সহকর্মীরা। এ ঘটনায় ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৮ জনের বিরুদ্ধে খামারের কেয়ারটেকার লেয়াকত হোসেন রনি বাদী হয়ে চুরির মামলা করেন। এ মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে ওই বছরের ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ইকবাল হোসেন ও তার তিন সহযোগীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই গরু চুরির মামলায় তিনি কয়েকমাস জেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইকবাল হোসেন এলাকার মূর্তমান আতঙ্ক হয়ে উঠে। তার শেল্টারে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমিদখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম শুরু করে সহকর্মী ও আত্মীয়স্বজনরা। হাট দখল, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যে, তার লোকজন করছে না। এসব করতে গিয়ে কয়েকটি কিশোর গ্যাং বাহিনী গড়ে তুলেন তিনি। ফলে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহত পেত না কেউ। তার বাহিনীর ভয়ে ভুক্তভোগীরা মামলা করার সাহস পায়নি। মামলা করলে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করার হুমকি দিতেন বলে জানান নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী।
এসব বিষয়ে জানতে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলে রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নীলফামারীতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনও ভুলবে না: আমিনুল হক
নতুন বুদ্ধিজীবীদের পনেরো টাকা দিয়ে কেনা গেছে: ববি উপাচার্য