ব্রিসবেনে ট্রাভিস হেডের সবশেষ ৩ ইনিংসের রান ছিল ০, ০, ০। তিনটাই গোল্ডেন ডাক। রবিবার গ্যাবায় সেই বৃত্ত ভাঙলেন সেঞ্চুরি দিয়ে। প্রায় বছর দেড়েক ধরে সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছিলেন না স্টিভেন স্মিথ, ভারতের বিপক্ষে তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন স্মিথও। দুজনের সেঞ্চুরিতে ব্রিসবেন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৪০৫ রান। ৫ উইকেট নিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরা।
টেস্টের প্রথম দিনটা প্রায় পুরোটাই গেছে বৃষ্টির পেটে। ৯০ ওভারের ভেতর খেলা হয়েছিল মাত্র ৮০ বল। দ্বিতীয় দিনে খেলা শুরু হওয়ার পর স্কোরবোর্ডে ১০ রান যোগ করতে করতেই অস্ট্রেলিয়ার ২ উইকেট নেই। উসমান খাজা ও নাথান ম্যাকশুইনি, দুজনেই বুমরা’র শিকার। এরপর স্টিভেন স্মিথ আর মারনাস লাবুশেন মিলে ৩৭ রানের জুটি গড়ে ধস ঠেকালেও খুব বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি একসঙ্গে। ৫৫ বলে ১২ রান করে লাবুশেন বিদায় নিলে উইকেটে আসেন আগের টেস্টেই গোলাপি বলে ফ্লাডলাইটে সেঞ্চুরি করা হেড। এসে দেখিয়ে দিয়েছেন; বলের রঙ, আকাশের অবস্থা, সূর্যের আলো না কৃত্তিম আলো...এর কোনো কিছুই তার ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলে না। তিনি একই রকম ‘নির্মম’। ১৬০ বলে ১৫২ রানের ইনিংস খেলেছেন হেড, চার মেরেছেন ১৮টি। ব্রিসবেনের তিন শূন্যের গেরো কাটিয়েছেন তিন অঙ্কের রানে। অপর পাশে ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। গত বছরের জুনে, লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর থেকেই স্মিথের ব্যাটে রানখরা। সেটা অবশ্য তার মানদ-েই। হাফসেঞ্চুরি আছে ৪টা, যার একটা ৯১*। বাংলাদেশের ক্রিকেটার হলে হয়তো বছরের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মনে করা হতো তাকে। কিন্তু খেলোয়াড়টা স্টিভেন স্মিথ আর দলটা অস্ট্রেলিয়া, তাই তো বছর দেড়েক সেঞ্চুরি না করাতে মনে হতে পারে রান করতেই ভুলে গেছেন! ভারতের বিপক্ষে ১৯০ বলে ১০১ রান করেছেন, ঘুচিয়েছেন সেঞ্চুরির খরা। অবশ্য উদযাপনের ১ রান পরেই বুমরা’র বলে সিøপে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গেছেন স্মিথ। বোলার ছিলেন বুমরা। কিছুক্ষণ পর একই ওভারে বুমরা’র জোড়া আঘাতে বিদায় নেন মিচেল মার্শ ও হেড। ৩১৬ থেকে ৩২৭, ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বেপথু হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়াকে কক্ষপথে রেখেছেন অ্যালেক্স ক্যারি আর মিচেল স্টার্ক। ক্যারি ৪৫ রানে অপরাজিত, সঙ্গে মিচেল স্টার্ক অপরাজিত ৭ রানে।
