মেহেদি-হাসানে বিজয়ের আনন্দ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৩৮ এএম

বিজয় দিবসের সকালে বাংলাদেশকে খেলার মাঠেও বিজয় এনে দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে, ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২ উইকেট হাতে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ১০ রান, হাসান মাহমুদ ৫ বলে ২ রান দিয়ে শেষ দুটো উইকেট তুলে নেন। তার আগে ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয়দের রান তাড়ার কাজটা কঠিন করে তুলেছিলেন শেখ মেহেদি হাসান।

১ বছরেরও বেশি সময় পর নেতৃত্বে লিটন দাস। তবে ভাগ্য আর বদলায়নি। ২০২১ সালের এপ্রিলে নেতৃত্বের অভিষেকেও লিটনের কপালে জুটেছিল শূন্য। বিরতির পর নতুন করে শুরুতেও বদলায়নি ভাগ্য। এবার প্রথম বলেই আউট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাদা বলে এটা ছিল তার চতুর্থ ইনিংস, স্কোরলাইন হয়ে থাকল ২, ৪, ০, ০। লিটনের আগে পরে তানজিদ হাসান তামিম (৬) ও আফিফ হোসেন (৮)-কে হারানোর পরও অন্যপ্রান্তে থাকা সৌম্য সরকার তার ব্যাটিংয়ের ধরন বদলাননি। পাওয়ার প্লে’তে ৩ উইকেটে ৩২ রান বাংলাদেশের। ছোট কিন্তু কার্যকর দুটো জুটিতেই বাংলাদেশের রান ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৪৭ রানে পৌঁছায়। সৌম্য সরকার ও জাকের আলি অনিক মিলে ৪২ বলে যোগ করেন ৫৭ রান, এরপর মেহেদি আর শামীম হোসেন মিলে যোগ করেন ২৯ বলে ৪৯ রান। বাজে শুরুর পরেও বাংলাদেশের রানটা যে ভদ্রস্থ জায়গাতে গেছে তার কারণ ৪ ব্যাটসম্যানের টি-টোয়েন্টি সুলভ ইনিংসের পাশাপাশি বাকিদের টি-টোয়েন্টি উপযোগী বিদায়। তানজিদ তামিম ও আফিফ, অল্পতেই বিদায় নিলেও বেশি বল নষ্ট করেননি। জাকেরের ২৭ বলে ২৭, সৌম্য’র ৩২ বলে ৪৩, মেহেদির ২৪ বলে ২৬ আর শামীমের ১৩ বলে ২৭ রান বাংলাদেশকে দেড়শ পার করাতে না পারলেও কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। জোড়া শিকার আকিল হোসেন এবং ওবেদ ম্যাকের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দেড়শ রান ডাল-ভাত। শুরুর ৩ ব্যাটসম্যান যেখানে ব্রেন্ডন কিং, জনসন চার্লস ও নিকোলাস পুরান। এরপর আন্দ্রে ফ্লেচার, রোভমান পাওয়েল, যাদের বিপিএলে দেখা যায় নিয়মিতই। এবং বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেটা পারেন না, অর্থাৎ অনায়াসে চার ছক্কা মারার জন্যই বাড়তি টাকায় তাদের নিয়ে আসে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এদের সামনে ১৪৭ রানের পুঁজি তো বাতাসেই মিলিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ব্যাপারটা সে রকম হলো না। যথারীতি তাসকিন আহমেদ দিলেন ব্রেক থ্রু, কিংকে আউট করে। পরের কাজটা করেছে মেহেদি। নতুন বলে স্পিন বোলিং করা মেহেদি একে একে আউট করেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনের দুই থেকে পাঁচ নম্বর ব্যাটসম্যানকে। ৭ ওভারের ভেতরেই ৩৮ রানে ৫ উইকেট নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এমন অবস্থায় রোভমান পাওয়েলের ব্যাটে পালটা জবাব এলো। ৩৫ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেললেন স্রোতের বিরুদ্ধে। সঙ্গে রোমারিও শেফার্ডের ১৭ বলে ২২। ম্যাচটা জয়ের খুব কাছে চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শেষ ওভারে জিততে লাগে ১০ রান। হাতে ২ উইকেট হলেও ৫টা চার আর ৪টা ছক্কা মারা পাওয়েল ছিলেন একপ্রান্তে। তার জন্য স্রেফ ২ বলের মামলা! প্রথম বলে আলজারি জোসেফ সিঙ্গেল নিয়ে পাওয়েলকে দিলেন স্ট্রাইকে, ৫ বলে লাগে ৯ রান। এই অবস্থায় হাসান মাহমুদ ওয়াইড ইয়র্কার দিয়ে আদায় করলেন ডট। পরের বলটা অফস্টাম্পের একটু বাইরে, ব্যাটের কানায় লাগিয়ে পাওয়েল পাঠালেন লিটনের হাতে। পরের বলে লেগবাইতে ১ রান হলো, জোসেফ স্ট্রাইকে। পরের বলে তার মিডল স্টাম্প উপড়ে নিলেন মাহমুদ, ঝড়ের কেন্দ্রে থেকেও শান্ত অবিচল থাকা হাসান মাহমুদের হাতেই বাংলাদেশ হাসল বিজয়ের হাসি।

ম্যাচসেরার পুরস্কার যদিও পেয়েছেন ২৬ রান করা আর ৪ উইকেট নেওয়া মেহেদি, তবে তার কণ্ঠেও প্রশংসা হাসান মাহমুদেরই, ‘হাসান আবারও প্রমাণ করেছে। আমার মনে আছে, আয়ারল্যান্ড সিরিজে হাসান ডেথ ওভারে একটি ম্যাচ জিতিয়েছিল। আমার ওই অনুভূতিটা আবার চলে আসছিল হাসান হয়তোবা পারবে। হাসানের বিশ্বাস ছিল কি না, আমি জানি না, কিন্তু আমার নিজের ওই বিশ্বাস ছিল যে হাসান হয়তোবা এই ম্যাচটা শেষ করবে। আলহামদুলিল্লাহ, হাসান শেষ ওভারে অসাধারণ বল করেছে।’

ব্যাটিংয়ে দিনটা খারাপ গেলেও উইকেটের পেছনে দিনটা ভালো গেছে লিটনের। এই ম্যাচে তার ৪টি ক্যাচ, একটি স্টাম্পিং। এক ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৫ ডিসমিসালের রেকর্ডটা করে ফেললেন তিনি। সেই সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্তভাবে বোলারদেরও কাজে লাগিয়েছেন। তাই তো বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু তার প্রতি খড়গহস্ত হচ্ছেন না, ‘লিটনের কাছে দল যা প্রত্যাশা করে, তিনি যে মানের ব্যাটসম্যান, সাদা বলের ক্রিকেটে তিনি ততটা ধারাবাহিক নন। তাই টুর্নামেন্ট (গত মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে) নির্ধারণী ম্যাচেও কিন্তু আমরা তাকে দলের বাইরে রেখেছিলাম। এই মুহূর্তে তিনি আমাদের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। একটা সিরিজ চলছে। আমার মনে হয়, এখন এটা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার আদর্শ সময় নয়। তবে এতটুকু বলতে পারি, আমরা তার আউট হওয়ার ধরন নিয়ে অবশ্যই চিন্তিত। ভবিষ্যতে যদি (ব্যাটিংয়ের) কিছু মেরামতের প্রয়োজন হয়, কোচরা আছেন। যদি সাময়িক বিরতি প্রয়োজন হয়, সেজন্যও কোচরা আছেন। অথবা তিনি যদি সামনের দুটো ম্যাচে ফেরত আসতে পারেন, তা সবচেয়ে বেশি স্বাগত জানানো হবে।’

ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ সময় ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৬ টায়, একই মাঠে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত