মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের বিজয় দাবি মোদির, তীব্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০৭ এএম

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস নিয়ে পোস্টে বাংলাদেশের নামই বললেন না ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের যুদ্ধ বলে দাবি করেছেন। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এক পোস্টে ভারতের সাহসী সৈনিকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়েছেন। এর আগেও তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের যুদ্ধ বলে দাবি করেছিলেন; যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। গতকাল অবশ্য মোদির সুরেই কথা বলেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তিনিও ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের বিজয় দাবি করেছেন।

এদিকে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া না হলেও মোদির বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে দেশে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তারা মোদির বক্তব্যকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কী লিখেছেন মোদি?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘আজ এই বিজয় দিবসে, আমরা ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই। তাদের নিঃস্বার্থ উৎসর্গ এবং অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে। এই দিনটিতে তাদের অসাধারণ বীরত্ব এবং তাদের অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে।’

প্রিয়াঙ্কা কী বলেছেন?

এদিন লোকসভায় দেওয়া ভাষণে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেত্রী ও সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ‘মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর সাহসিকতাপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। লোকসভায় ভাষণের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লড়াই করা সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাহসিকতাপূর্ণ নেতৃত্ব ও ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ‘আজ বিজয় দিবস। প্রথমেই আমি স্যালুট জানাতে চাই সেই সব বীর সৈনিকদের, যারা একাত্তরে আমাদের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। সেই সময় বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, সেই বিষয় বাংলাদেশের জনগণের আমাদের বাঙালি ভাই ও বোনদের কথা কেউ শোনেনি।’ তিনি বলেন, ‘সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী; আমি তাকে স্যালুট জানাতে চাই। তিনি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও সাহস দেখিয়েছিলেন এবং এমন নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন; যা দেশটিকে বিজয়ী করে।’

লোকসভায় ভাষণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমপর্ণের মুহূর্তের দৃশ্যের একটি চিত্রকর্ম সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিষয় হলো, পাকিস্তানি সেনারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করছেন, এমন একটি চিত্রকর্ম আজ সেনাবাহিনীর সদরদপ্তর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’

তীব্র প্রতিবাদ আসিফ নজরুলের:

মহান বিজয় দিবস নিয়ে নরেন্দ্র মোদির পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এই প্রতিবাদ জানান আসিফ নজরুল। এতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট যুক্ত করেছেন।

আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘তীব্র প্রতিবাদ করছি। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ছিল বাংলাদেশের বিজয়ের দিন। ভারত ছিল এই বিজয়ের মিত্র, এর বেশি কিছু নয়।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ দেখছেন হুমকি হিসেব:

মোদির এই পোস্ট নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এই প্রতিক্রিয়া জানান। হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মোদি দাবি করেছে, এটি শুধু ভারতের যুদ্ধ এবং তাদের অর্জন। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের অস্তিত্বই উপেক্ষিত।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লিখেছেন, ‘যখন এই স্বাধীনতাকে ভারত নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করে, তখন আমি একে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখি।’

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘ভারতের এই হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত