শেষ বলে ৪, ৬ হলো না, ব্যর্থ রাব্বী-হৃদয়

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম

এক ম্যাচে শেষ বলে দরকার ছিল ৪ রান। আরেক ম্যাচে ৬ রান। কিন্তু কোনোটাই হয়নি। রোমাঞ্চকর শেষ ওভারে রাজশাহী আর সিলেটের ব্যাটসম্যানদের আটকে দিয়ে জাতীয় টি-টোয়েন্টি লিগে ম্যাচ জিতে নিয়েছে চট্টগ্রাম আর ঢাকা মেট্রো। 

শেষ ওভারে ১৩ রান হল না
সিলেট অ্যাকাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের ছুড়ে দেয়া ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে চোট কাটিয়ে ফেরা তাওহীদ হৃদয় (৫০ বলে ৬৯) ও মুশফিকুর রহিম (৩১ বলে ৪৬)-এর ১০২ রানের জুটিতে জয়ের কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল রাজশাহী। ১৬ থেকে ৪ ওভারে ৫৫ রান তুলে ১৮৬ রানে পৌছে যায় তারা। শেষ ওভারে দরকার ১৩ রান। ক্রিজে তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু নাঈম হাসানের বলে আউট হয়ে যান তিনি। অধিনায়ক প্রীতম কুমার এসেই ছক্কা মারলে, জমে ওঠে লড়াই। কিন্তু পরের বলেই নাঈম এলবিডাব্লিউয়ের ফাদে ফেলেন প্রীতমকে। পরের বলে নিহাদুজ্জামানকেও আউট করেন নাঈম। সফিউল ইসলাম এসে এক রান নিলে শেষ বলে স্ট্রাইকে ফরহাদ রেজা। ছক্কা মারলে জয়, বাউন্ডারি মারলে টাই হয়। কিন্তু নাঈম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল করলে রেজা তাতে কিছুই করতে পারেননি। ৪ রানে জিতে যায় চট্টগ্রাম। 

চোট কাটিয়ে ফিরে ম্যাচ জেতাতে যাচ্ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হয়ে যান। ম্যাচও হেরে যায় রাজশাহী

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মুমিনুল হকের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় চট্টগ্রাম। মাহমুদুল হাসান জয় ১১ রান করে দেড় বছর পর মাঠে নামা শফিউল ইসলামের বলে আউট হন।। এরপর জাতীয় দলের আরেক তারকা শাহাদাত হোসেন দিপুর সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল। এরপর দ্রুত এ দুই ব্যাটার ফিরে গেলে এক প্রান্ত আগলে এগিয়ে যেতে থাকেন ইরফান শুক্কুর। চতুর্থ উইকেটে ইয়াসির আলির সঙ্গে ৩৯ ও নাঈমের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাতেই বড় পুঁজি পেয়ে যায় দলটি।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন শুক্কুর, ২৯ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায়। মুমিনুল ৩৬ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ৫২ রান। ১৫ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৫ রান করেন দীপু। ১০ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ রানের ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন নাঈম। পরে ২ উইকেট নেয়ায় তিনিই হয়েছেন ম্যাচসেরা। 

১ রানে হেরে বিদায়ের শঙ্কায় সিলেট

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৫৭ তাড়া করতে নেমে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই গিয়েছিল সিলেট। শেষ ২ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৩৯ রান। সেই ম্যাচকেই জাগিয়ে তোলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বী। ৭ উইকেটে ১১৮ রান থেকে ১৯তম ওভারে ১৫ রান নিলে শেষ ৬ বলে তাদের দরকার পড়ে ২৪ রান। শহিদুল ইসলামের প্রথম ৫ বল থেকে রাব্বী ৩ ছক্কা ও ২ রান নিলে ম্যাচ উত্তেজনাকর অবস্থায় পৌছায়। শেষ বলে দরকার বাউন্ডারি। কিন্তু রাব্বী বাউন্ডারি মারতে পারেননি। দু রান নিয়ে আক্ষেপে পুড়তে দেখা যায় তাকে। ৩৯ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এই পরাজয়ে জয়হীন সিলেট, যারা এনসিএল চার দিনের শিরোপা জিতেছিল, বিদায়ের শঙ্কায় পড়লো। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত