ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৩০ এএম

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ হত্যার ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক টকশোর উপস্থাপক এ হত্যার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, এ হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার নিজের মৃত্যুদণ্ডে সই করেছেন।

গত মঙ্গলবার সকালে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় এক বিস্ফোরণে ইগর কিরিলভ নিহত হন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভূখণ্ডে দেশটির সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কোনো সামরিক কর্মকর্তা ইউক্রেনের হামলায় প্রাণ হারালেন। ইগর কিরিলভ রাশিয়ার ‘নিউক্লিয়ার, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল প্রোটেকশন ট্রুপস’ নামে একটি বাহিনীর প্রধান ছিলেন। এ গুপ্তহত্যার দায় স্বীকার করেছে ইউক্রেন।

ইগর কিরিলভ নিহত হওয়ার পর মস্কোর পরিস্থিতি এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন বিবিসি রাশিয়ার সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গ। ওই প্রতিবেদনের ভাষ্য, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের যে বাস্তবতা, তা এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ঘরে বসে বসে টের পেল মস্কোবাসী। অন্তত বিস্ফোরণস্থলের কাছে যাদের বসবাস, তারা টের পেয়েছেন। আর পুতিন সরকারের জন্য স্পষ্টই জেগে ওঠার ডাক। এখন প্রশ্ন, এ ঘটনা কি রুশ কর্র্তৃপক্ষের জন্য একটি জেগে ওঠার ডাক হিসেবে কাজ করবে?

বিবিসি রাশিয়ার সম্পাদক স্টিভ রোজেনবার্গের মতে, সম্ভবত না। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ক্রেমলিনের সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। রুশ জেনারেল ইগর কিরিলভ হত্যার খবর নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভির একটি রাজনৈতিক টকশোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টকশোর উপস্থাপক এ হত্যার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এ হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজের মৃত্যুদণ্ডে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, তদন্তকারীদের অবশ্যই রাশিয়ায় খুনিদের খুঁজে বের করতে হবে। কিয়েভে থাকা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নির্মূল করার জন্য আমাদের অবশ্যই সবকিছু করতে হবে।

রুশ জেনারেল ইগর কিরিলভ ও তার সহকারীকে হত্যার বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ক্রেমলিনের নেতা পুতিন আগে বহুবার বলেছেন, নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হলে রাশিয়া সবসময় জবাব দেবে। পুতিনের এ অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই হত্যার বদলা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার পুতিন তার বছর শেষের বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন করবেন। সম্ভবত এ অনুষ্ঠানেই ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে পারেন তিনি। তবে পুতিন যাই বলুন না কেন, গত তিন বছরের ইউক্রেন সম্ভবত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে, সাহসিকতা দেখিয়েছে। এখন দেখার বিষয় সেটি কীভাবে সামাল দেয় কিয়েভ।

অবশ্য এর মধ্যে ইগর কিরিলভ ও তার সহযোগীকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ২৯ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি) জানিয়েছে, আটক হওয়া ওই তরুণ উজবেকিস্তানের নাগরিক। ইউক্রেনের গোয়েন্দারাই ওই সন্দেহভাজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে ওই সন্দেহভাজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

গতকাল একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা ইতিমধ্যে দাবি করেছে, তারা এ হত্যার পেছনে আছে। ইউক্রেনের একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। কিরিলভ যুদ্ধাপরাধ করেছেন। তাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করাটা ‘ন্যায়সংগত’।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সোমবার ৫৪ বছর বয়সী কিরিলভকে তার অনুপস্থিতিতেই ইউক্রেনের আদালতে অভিযুক্ত করা হয়। বলা হয়, তিনি গণহারে নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য দায়ী। কিন্তু ইউক্রেন কিরিলভের বিরুদ্ধে নিজেদের আদালতে এ রায় দিয়ে, তাকে হত্যা করে যুদ্ধের মোড় অন্যদিকেই ঘুরিয়ে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত